ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়
ঘরে বসে মাত্র পাঁচ মিনিটে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে চান? বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্যাংকিং সেবা এখন আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে এবং এর একটি বড় প্রমাণ হলো ঘরে বসে একাউন্ট খোলার সুবিধা। ব্যস্তময় জীবনে ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার দিন এখন শেষ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় এবং জনপ্রিয় শরিয়া ভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি গ্রাহকদের জন্য এই আধুনিক ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করেছে। এ সম্পূর্ণ গাইডে আমরা আলোচনা করব কিভাবে কোন ঝামেলা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় অবলম্বন করে আপনি আপনার ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।
পেজ সূচিপত্রঃ ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়
- ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়
- অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- সেলফিন (CELLFIN) অ্যাপ ডাউনলোড এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ভেরিফিকেশন করার নিয়ম
- লাইভ ফেস ভেরিফিকেশন এবং সেলফি তোলার ধাপ
- ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য ফরম পূরণ
- নমিনির তথ্য এবং ছবি আপলোড করার পদ্ধতি
- কাঙ্খিত ব্রাঞ্চ নির্বাচন এবং একাউন্টের ধরন নির্ধারণ
- একাউন্ট সক্রিয়করণ এবং প্রথম ডিপোজিট করার নিয়ম
- শেষ কথাঃ ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়
ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়
ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় জানা থাকলে আপনি মাত্র কয়েক
মিনিটের মধ্যেই একটি সম্পূর্ণ সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে পারবেন।
বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং খাতকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক তাদের
প্রযুক্তিগত সেবাকে অনেক উন্নত করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বসেই
ব্যাংকের যাবতীয় সুবিধা উপভোগ করতে পারছে।অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলার এই আধুনিক
প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি প্রধান মাধ্যমের সাহায্যে সম্পন্ন করা যায়-প্রথমটি হল
ইসলামী ব্যাংকের অত্যন্ত জনপ্রিয় ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপ সেলফিন এবং দ্বিতীয়টি
হল তাদের অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল। আপনার কাছে যদি একটি ইন্টারনেট সংযোগ সহ
স্মার্টফোন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকে, তবে আপনি ব্যাংকের কোন সম্পন্ন করতে
পারবেন।
অনলাইনে এই অ্যাকাউন্ট খোলার চমৎকার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং ব্যবহারকারী
বান্ধব করার কারণে সর্বস্তরের মানুষের কাছে এটি বেশ প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে
যারা চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী বা শিক্ষার্থী, যাদের প্রতিদিনের ব্যস্ততার
কারণে ব্যাংকিং আওয়ারে সরাসরি ব্রাঞ্চে যাওয়ার সময় হয়ে ওঠে না, । তাদের জন্য
এই অনলাইন ব্যবস্থা একটি যুগান্তকারী সমাধান। আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র এবং
নিজের সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আপনি নিজেই নিজের অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে
পারেন। সরিয়া ভিত্তিক আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য এই
ডিজিটাল পদ্ধতিটি ব্যবহার করা শুধু সময়ের শাস্ত্রই করেনা, বরং আপনাকে দেয়
কাগজের নথিপত্র বহনের ঝামেলা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি। তাই বর্তমান সময়ের
সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ডিজিটাল পদ্ধতিতে একাউন্ট খোলার পূর্বে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র হাতের কাছে
গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি , কারণ সঠিক তথ্য প্রদান না করলে আবেদনটি বাতিল হয়ে
যেতে পারে। ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় সফল করতে আপনার
যে সমস্ত ডকুমেন্টস স্ক্যান বা ছবি তুলে আপলোড করতে হবে, তার একটি সংক্ষিপ্ত
তালিকা নিচে দেয়া হল। এই নথিপত্র গুলো ডিজিটাল ফরমেট বা স্পষ্ট ছবি আকারে আপনার
ফোনে আগে থেকেই সেভ করে রাখলে অ্যাকাউন্ট খোলার পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সম্পন্ন
করা সম্ভব হবে।
- আবেদনকারীর মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর সামনের এবং পেছনের অংশের স্পষ্ট ছবি।
- গ্রাহকের সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (যা অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি লাইভ তোলা যায়)।
- নমিনের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা পাসপোর্ট এর স্পষ্ট কপি।
- নমিনির এক কপি স্পষ্ট পাসপোর্ট সাইজের ছবি যা অ্যাকাউন্টের সুরক্ষার জন্য আপলোড করতে হবে।
- একটি চালু মোবাইল নাম্বার যা আবেদনকারীর নিজের নামে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রি কৃত হতে হবে।
- বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিলের (গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানি) কপি (প্রয়োজন সাপেক্ষে)।
অনলাইন প্রক্রিয়ায় এই সমস্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে ইনপুট দিতে
হবে যাতে পরবর্তীতে ব্যাংকিং লেনদেনে কোন আইনি বা প্রযুক্তিগত সমস্যা না
হয়। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বরের সাথে আপনার নাম এবং জন্ম তারিখ
যেন হুবহু মিলে যায়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। এছাড়া নমিনিনের তথ্য
প্রদানের ক্ষেত্রে সম্পর্ক এবং তার সঠিক নাম উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, যা
ভবিষ্যতের জরুরী পরিস্থিতিতে একাউন্টের দাবিদার নির্ধারণ করবে। এই তথ্যগুলো
আপলোড করার সময় ছবির সাইজ এবং স্পষ্ট ঠিক থাকলে ব্যাংকের সেন্ট্রাল ভেরিফিকেশন
সিস্টেম খুব দ্রুত আপনার অ্যাকাউন্টটি অনুমোদন দিয়ে দেয়।
সেলফিন (CELLFIN) অ্যাপ ডাউনলোড এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
ইসলামী ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মূল চালিকাশক্তি হলো তাদের নিজস্ব মোবাইল
অ্যাপ্লিকেশন সেলফিন, যার মাধ্যমে ব্যাংকিংকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে
যাওয়া হয়েছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার
সহজ উপায় মূলত এই অ্যাপটির সঠিক ব্যবহারের ওপরে সম্পূর্ণভাবে নির্ভর
করে। একাউন্ট তৈরির প্রথম ধাপে আপনাকে আপনার ফোনের গুগল প্লে স্টোর
(GOOGLE PLAY STORE) অথবা অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর (APPLE APP STORE) থেকে সেলফিন
(CELLFIN) লিখে অ্যাপটি সার্চ করতে হবে এবং অফিসিয়াল অ্যাপটি ডাউনলোড করে
ইন্সটল করতে হবে। অ্যাপটি ওপেন করার পর শুরুতেই আপনাকে রেজিস্ট্রেশন অপশন এ
ক্লিক করে আপনার সচল মোবাইল নাম্বারটি দিয়ে একাউন্ট খোলার প্রাথমিক কাজ শুরু
করতে হবে।
প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর ওপেনঃ এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আপনাকে আপনার স্মার্ট ফোনে থাকা
অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর এ প্রবেশ করতে হবে আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী
হয়ে থাকেন তবে আপনার ফোনে থাকা গুগল প্লে স্টোর ওপেন করুন আর যদি আইফোন বা আইওএস
ব্যবহার করে হন তবে অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর ওপেন করুন প্রবেশের সময় আপনার ফোনে
ইন্টারনেট সংযোগ বা ওয়াইফাই অন রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
অ্যাপ সার্চ ও ইন্সটলঃ অ্যাপ স্টোরটি ওপেন করার পর একদম উপরে একটি সার্চ বার দেখতে পাবেন, সেখানে
ইংরেজিতে সেলফিন (CELLFIN) লিখে সার্চ করুন সার্চ রেজাল্টের একদম প্রথমে ইসলামী
ব্যাংক বাংলাদেশ পি এল সি এর অফিসিয়াল এবং আসল সেলফিন
(CELLFIN) অ্যাপটি আইকোন সহ আপনার সামনে প্রদর্শিত হবে। এবার অ্যাপটির
পাশে থাকা ইনস্টল (INSTALL) বা গেট (GET) বাটনে ক্লিক করুন এবং অ্যাপটি সম্পূর্ণ
ডাউনলোড হয়ে আপনার ফোনে ইন্সটল হওয়া পর্যন্ত কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
রেজিস্ট্রেশন শুরুঃ একটি সফলভাবে ডাউনলোড হয়ে যাওয়ার পর এটি ওপেন করুন এবং এর হোমস্ক্রিনে থাকা
রেজিস্টার (REGISTER) বা সাইন আপ (SIGN UP) বাটনে ক্লিক করে মূল প্রক্রিয়াটি
শুরু করুন। এখানে শুরুতে আপনার দেশ (যেমনঃ বাংলাদেশ বা প্রবাসীদের নির্দিষ্ট
দেশ) সিলেক্ট করতে হবে এবং নিচে আপনার মোবাইল অপারেটর (যেমনঃ গ্রামীণফোন, রবি,
এয়ারটেল, বাংলালিংক, বা টেলিটক) বেছে নিতে হবে। অপারেটর সিলেক্ট করার পর
আপনার সচল এবং নিজের নামে বায়োমেট্রিক রেজিস্টিকৃত ১১ ডিজিটের মোবাইল নাম্বারটি
নির্ভুল ভাবে ইনপুট দিন।
পাসওয়ার্ড বা পিন সেটঃ এভাবে আপনার সেল্ফিন একাউন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি
অত্যন্ত শক্তিশালী এবং শক্তিশালী পিন নাম্বার সেট করতে হবে। স্ক্রিনে থাকা
নির্দিষ্ট বক্সে আপনার পছন্দমত যে কোন ছয় ডিজিটের একটা গোপন পিন নাম্বার লিখুন
এবং নিচে সেটি পুনরায় টাইপ করে কনফার্ম করুন। মনে রাখবেন, এই পিন
নাম্বারটি আপনার ডিজিটাল ওয়ালেটের মূল চাবিকাঠি, তাই এটি কখনোই ১২৩৪৫৬ বা
আপনার জন্ম সালের মত সহজ কোন নাম্বার দিবেন না এবং এটি সম্পূর্ণ গোপন রাখবেন।
ওটিপি Otp ভেরিফিকেশনঃ পিন সেট করার পর আপনার দেওয়া মোবাইল নাম্বারটির সত্যতা যাচাই করার জন্য
সিস্টেমে থাকা সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন সাথে সাথেই ব্যাংকের অটোমেটেড সিস্টেম
থেকে আপনার অন্য মোবাইল নম্বরে একটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ছয় ডিজিটের একটি
ভেরিফিকেশন কোড এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে। অ্যাপের নির্দিষ্ট ওটিপি বক্সে
সেই কোডটি হুবহু টাইপ করে বসিয়ে দিন এবং এবং ভেরিফাই বাটনে ক্লিক করে আপনার
মোবাইল নাম্বার যাচাইয়ের কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করুন।
মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন এর সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সেলফিন অ্যাপে আপনার
একটি প্রাতিষ্ঠানিক ডিজিটাল প্রোফাইল বা ওয়ালেট তৈরি হয়ে যাবে। মনে রাখবেন
যে, এই পিন নাম্বারটি অত্যন্ত গোপনীয় এবং এটি আপনার আর্থিক লেনদেনের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্য কারো সাথে শেয়ার করা যাবে না, কারণ এর মাধ্যমে
আপনার সমস্ত আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রিত হবে। , সচল হওয়ার পর আপনি এর ভেতরেই ওপেন
ব্যাংক একাউন্ট নামে একটি ডেডিকেটেড অপশন দেখতে পাবেন যা আপনাকে মূল
অ্যাকাউন্ট খোলার পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে। এই আধুনিক ডিজিটাল ওয়ালেট
ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি শুধু একাউন্টটি খুলবেন না, বরং ভবিষ্যতে ঘরে বসেই
ফান্ড ট্রান্সফার, মোবাইল রিচার্জ এবং ইউটিলিটি বিল পেমেন্টের মতো চমৎকার
সবসেবা উপভোগ করতে পারবেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ভেরিফিকেশন করার নিয়ম
অনলাইন ব্যাংকিং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল ধাপ হলো গ্রাহকের জাতীয়
পরিচয় পত্র বা এন আই ডি কার্ডের সত্যতা ডিজিটাল ভাবে যাচাই করা। ইসলামী
ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় অ্যাপের মাধ্যমে করার সময় এই এনআইডি
ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে। লগইন করার পর
যখন আপনি একাউন্ট খোলার অপশনে যাবেন, তখন আপনাকে আপনার আইডি কার্ডের সামনের
অংশ এবং পেছনের অংশের ছবি তোলার নির্দেশ দেওয়া হবে। অ্যাপ এর ক্যামেরা
প্রেমের মধ্যে রেখে কাটির স্পষ্ট ছবি তুলতে হবে যেন কার্ডে থাকা টেক্সট এবং আপনার
ছবি পরিস্কার ভাবে বোঝা যায়।
ছবি তোলার পর অ্যাপের উন্নত অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন প্রযুক্তি
স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার এনআইডি থেকে নাম, পিতার নাম, মাতার
নাম, জন্ম তারিখ এবং ঠিকানা সংগ্রহ করে নেবে। এর পরের স্ক্রিনে
প্রদর্শিত তথ্যের সাথে আপনার মূল কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখে নিশ্চিত হতে হবে যে
সবকিছু সঠিকভাবে স্ক্যান হয়েছে কিনা। যদি কোন কারণে তথ্য ভুল আসে, তবে
পুনরায় স্পষ্ট আলোতে ছবি তোলার চেষ্টা করতে হবে। এই ডিজিটাল কেওয়াইসি বা
ডিজিটাল গ্রাহক পরিচিতি যাচাই করন পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাংক নিশ্চিত করে যে সঠিক
ব্যাক্তিই একাউন্টটি খুলছেন এবং এর ফলে কোন ধরনের জালিয়াতি বা ভুয়া একাউন্ট
তৈরির সুযোগ থাকে না।
লাইভ ফেস ভেরিফিকেশন এবং সেলফি তোলার ধাপ
এনআইডি কার্ডের তথ্য যাচাই করার পর গ্রাহকের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং
জালিয়াতি রুখে দিতে লাইভ ফেস ভেরিফিকেশন বা সেলফি তোলার ধাপটি অত্যন্ত
গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করতে হয়। এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইসলামী
ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় আরও বেশি সুরক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য হয়ে
উঠেছে। এই ধাপে অ্যাপের সামনের ক্যামেরাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে এবং
আপনাকে আপনার ফেস বা মুখমন্ডল টি ক্যামেরার সামনে নির্দিষ্ট বৃত্তাকার প্রেমের
ভেতর সোজা করে রাখতে বলা হবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন পর্যাপ্ত আলো রয়েছে
এমন স্থানে থাকা অত্যন্ত জরুরী যাতে আপনার মুখের প্রতিটি অংশ স্পষ্ট ভাবে স্ক্যান
হতে পারে।
লাইভ ভেরিফিকেশনের সময় অ্যাপ থেকে আপনাকে কিছু নিজ সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হতে
পারে যেমন চোখের পলক ফেলা, সামান্য মাথা নাড়ানো অথবা মৃদু হাসি
দেওয়া। এই নির্দেশ গুলো সঠিকভাবে পালন করলে সিস্টেম নিশ্চিত হয় যে
ক্যামেরার সামনে কোন স্থির ছবি বা মুখোশ নেই, বরং একজন জলজ্যান্ত মানুষ
সশরীরে একাউন্টটি খুলছেন। আপনার ফেস এর সাথে এনআইডি কার্ডের ছবির মিল খুঁজে
পাওয়ার পর সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ছবি ক্যাপচার করে নেবে। এই
প্রযুক্তিটি ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিপ্লবিক
পদক্ষেপ, গ্রাহককে সশরীরে ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে ছবি সত্যায়ন করার প্রথাগত
নিয়ম থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়েছে।
ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য ফরম পূরণ
ছবি এবং এনআইডি কার্ড ভেরিফিকেশন সফল হওয়ার পর আপনার সামনে একটি ডিজিটাল ফর্ম
আসবে, যেখানে আপনার কিছু ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য নিখুঁতভাবে প্রদান করতে
হবে। আপনার জন্য ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় আরো সহজ
করতে এই ফর্মে নতুন সাধারণ কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়, যা ব্যাংকের নিয়ম
অনুযায়ী অত্যন্ত আবশ্যিক। এখানে শুরুতে আপনার লিঙ্গ, ধর্মের
নাম, এবং বৈবাহিক অবস্থা সিলেক্ট করতে হবে। এরপর আপনার আয়ের উৎস এবং
পেশা যেমন ছাত্র চাকরিজীবী ব্যবসায়ী বা গৃহিণী গ্রুপডাউন মেনু থেকে সঠিকভাবে
নির্বাচন করতে হবে।
পেশাগত তথ্য নির্বাচনের পাশাপাশি আপনার আনুমানিক মাসিক আয় এবং লেনদেনের সম্ভাব্য
মাত্রা কত হতে পারে, তার একটি সাধারণ ধারণা এখানে দিতে হবে। এই
তথ্যগুলো ব্যাংকের সেন্ট্রাল ডাটাবেজে আপনার একাউন্টের প্রোফাইল বা ট্রানজেকশন
প্রোফাইল তৈরিতে সাহায্য করে, যা পরবর্তীতে বড় অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে
খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমস্ত তথ্য ইনপুট দেওয়া শেষ হলে পুরো
ফর্মটি আরো একবার ভালো করে চেক করে নেওয়া উচিত। কোন ভুল তথ্য দিলে
পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় আইনি জটিলতা বা লেনদেন ব্লক হয়ে যাওয়ার মত
সমস্যায় পড়তে পারেন, তাই প্রতিটি ফিল্ড অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে পুরন করতে
হবে।
নমিনির তথ্য এবং ছবি আপলোড করার পদ্ধতি
যেকোনো ব্যাংক একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে নমিনি বা উত্তরাধিকারী মনোনীত করা একটি
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া, যা অনলাইন ফর্মেও বাধ্যতামূলক করা
হয়েছে। আপনি যখন ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় অনুসরণ
করে ফরম পূরণ করবেন, তখন নমিনীর অংশে তার যাবতীয় সঠিক তথ্য ইনপুট দিতে
হবে। এখানে নোমিন এর পূর্ণ নাম যা তার এনআইডি অনুযায়ী হতে হবে, আপনার
সাথে তার নির্দিষ্ট সম্পর্ক এবং তার বয়স কত তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে
হবে। নমিনি যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তবে তার অভিভাবকের তথ্য দেওয়ার
জন্য অতিরিক্ত একটি ফরম পূরণ করতে হতে পারে।
তথ্য পূরণের পাশাপাশি নমিনিনের একটি স্পষ্ট পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং তার জাতীয়
পরিচয় পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদের ছবি এপে আপলোড করতে হবে। এই ডিজিটাল
ডকুমেন্টসগুলো ব্যাংকের আর্কাইভে সুরক্ষিত থাকে, যা ভবিষ্যতে কোন জরুরী বা
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে একাউন্টের জমানো টাকা উত্তোলনের আইনীয় অধিকার নিশ্চিত
করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। নমিনির তথ্য ও সঠিকভাবে সাবমিট করা হয়ে গেলে আপনার
অনলাইন এপ্লিকেশনের একটি বড় অংশ সফলভাবে সম্পন্ন হবে। আধুনিক এই ব্যাংকিং
সিস্টেমে নয়নের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকায় কাগজের ফরম হারানোর কোন ভয়
থাকে না এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত স্বচ্ছ থাকে।
কাঙ্খিত ব্রাঞ্চ নির্বাচন এবং একাউন্টের ধরন নির্ধারণ
এভাবে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি ইসলামী ব্যাংকের কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট
খুলতে চান এবং সেটি কোন নির্দিষ্ট ব্রাঞ্চের অধীনে পরিচালিত হবে। ডিজিটাল
মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট করার সহজ উপায় ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা
হলো, আপনি ঘরে বসেই বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তের যেকোনো ব্রাঞ্চ বা শাখা
নির্বাচন করতে পারবেন। ফর্মে থাকা জেলা এবং ব্রাঞ্চের তালিকা থেকে আপনার
বাড়ির বা কর্মস্থলের সবচেয়ে কাছের শাখাটি সিলেক্ট করুন, যেন ভবিষ্যতে কোন
বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংকে যেতে হলে আপনার যাতায়াত সহজ ও আরামদায়ক হয়।
শাখা নির্বাচনের পর আপনাকে একাউন্টের ধরন বা প্রোডাক্ট টাইপ বেছে নিতে হবে (যেমনঃ
মুদারাবা সেভিংস একাউন্ট, স্টুডেন্ট একাউন্ট অথবা কারেন্ট একাউন্ট)। সাধারণ
সঞ্চয় এবং দৈনন্দিন সাধারণ লেনদেনের জন্য মুদারাবা সেভিংস একাউন্ট সবচেয়ে
জনপ্রিয় এবং এটি গ্রাহকদের একটি ভালো মুনাফাও প্রদান করে থাকে। অন্যদিকে
আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হন, তবে বিশেষ সুবিধার জন্য স্টুডেন্ট একাউন্ট
বেছে নিতে পারেন যেখানে কোন অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই ব্যাংকিং করা
সম্ভব। আপনার প্রয়োজন এবং আর্থিক উদ্দেশ্যের সাথে মিল রেখে সঠিক অ্যাকাউন্ট
আইডি সিলেক্ট করে পরবর্তী চূড়ান্ত ধাপের জন্য এগিয়ে যান।
একাউন্ট সক্রিয়করণ এবং প্রথম ডিপোজিট করার নিয়ম
সবগুলো ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এবং আপনার দেওয়া সমস্ত তথ্য সাবমিট করার পর
ব্যাংকের ব্যাক এন্ড টিম আপনার আবেদনটি রিভিউ করবে এবং ভাইজার সবকিছু ঠিক থাকলে
কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার একাউন্টের সম্পূর্ণ সক্রিয় বা একটিভ করে
দিবে। অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই আপনার
মোবাইল নাম্বারে একটি কনফার্মেশন এসএমএস পাঠানো হবে, যেখানে আপনার নতুন
একাউন্ট নাম্বারটি উল্লেখ থাকবে। অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি সচল রাখতে এবং এর
কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য আপনাকে একটি প্রাথমিক ডিপোজিট বা টাকা জমা করতে
হবে।
এ প্রথম ডিপোজিট টি করার জন্য আপনাকে কোন ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে লাইনে
দাঁড়াতে হবে না, বরং আপনি ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবহার করেই এ কাজটি সম্পন্ন
করতে পারবেন। আপনি চাইলে আপনার সেলফি ওয়ালেটে থাকা ব্যালেন্স থেকে সরাসরি
নতুন ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে পারেন, অথবা অন্য কোন ব্যাংকের
ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং যেমন বিকাশ রকেট বা নগদ থেকে ফান্ড
ট্রান্সফার করতে পারেন। এছাড়াও যে কোন ইসলামী ব্যাংকের সি আর এম বুথে গিয়ে
কার্ড ছাড়াই সরাসরি একাউন্ট নাম্বার ইনপুট দিয়ে টাকা ক্যাশ ইন বা জমা করা
সম্ভব। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার সাথে সাথে আপনার
একাউন্টে লেনদেনের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে যাবে।
শেষ কথাঃ ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়
ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায় আমাদের জীবনযাত্রাকে কতটা সহজ
এবং গতিশীল করে তুলেছে, তা এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করলেই খুব
স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায়। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি এবং শরিয়া ভিত্তিক ব্যাংকিং
এর এই চমৎকার সমন্বয়ে গ্রাহকদের জন্য এক অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে, যার
ফলে ব্যাংকিং সেবা এখন আর কোনো জটিল বিষয় নয়। ঘরে বসে মাত্র কয়েকটি
ক্লিকের মাধ্যম একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করা এখন
একদম বাস্তব এই ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করার মাধ্যমে আপনি শুধু নিজের মূল্যবান সময়ই
বাঁচাচ্ছেন না,
বরং দেশের ক্যাশলেস সোসাইটি বা ডিজিটাল অর্থনীতিবিনির্মাণের দিকেও এক ধাপ এগিয়ে
যাচ্ছেন।
অনলাইন ব্যাংকিং এর এই সোনালী সময়ে ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপ এবং তাদের
আধুনিক ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে একাউন্ট খোলার এ সহজ গাইডলাইন কাজ করি আপনার
ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি আনন্দদায়ক করবে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে
নিজের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সঠিক নিয়মে একাউন্ট পরিচালনা করাই হলো
বর্তমান যুগের স্মার্ট সিটিজেনদের মূল বৈশিষ্ট্য। তাই আর দেরি না করে
আপনার একাউন্টটি তৈরি করে নিন এবং ইসলামী ব্যাংকের চমৎকার সব ডিজিটাল ব্যাংকিং
সেবার এক নতুন দুনিয়ায় প্রবেশ করুন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url