সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি

সৌদি আরবে বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি খুঁজছেন? কোন ঝামেলা ছাড়া ঘরে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটে প্রবাসে বসে দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল করার প্র্যাকটিক্যাল গাইডলাইন  জানুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সেলফিন বা সরকারি অ্যাপের ট্রিক্স এবং বৈধ পথে 2.5% সরকারি  প্রণোদনা পাওয়ার সহজ উপায় দেখে নিন এই পোস্টে আজই আপনার কষ্টে অর্জিত রেমিটেন্সের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে বর্তমানে লাখো লাখো প্রবাসী বাংলাদেশী অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখছেন। প্রবাসীদের কষ্টে অর্জিত অর্থ বৈধ উপায়ে দেশে পাঠানো এবং নিজের ভবিষ্যতে সঞ্চয় করার জন্য একটি দেশের ব্যাংক একাউন্ট থাকা অত্যন্ত জরুরী। অনেক প্রবাসী ভাই সঠিক তথ্যের অভাবে প্রবাসে বসে দেশের ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারেন না বা বিভিন্ন ঝামেলার      মুখোমুখি হন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন আর প্রবাসীদের এ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আজকের এই তথ্যবহুল গাইডলাইনে আমরা খুব সহজ ভাষায় এবং বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব কিভাবে আপনি প্রবাসে বসেই নিজের নামে একাউন্ট চালু করতে পারবেন।

পেইজ সূচিপত্রঃ সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি

সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি

সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি, সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী ভাইদের জন্য দেশে একটি নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। বৈধ উপায় দেশে টাকা পাঠানো এবং নিজের কষ্টে অর্জিত অর্থের সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বৈধ অ্যাকাউন্ট থাকা দরকার। সাধারণ প্রবাসীদের সুবিধার্থে আজ আমরা সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি নিয়ে একদম বিস্তারিত এবং সহজ ভাষায় আলোচনা করব। অনেক সময় সঠিক নিয়ম না জানার কারণে প্রবাসীরা দালালের খপ্পরে পড়েন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অথচ বর্তমান ডিজিটাল সিস্টেমে আপনি চাইলে ঘরে বসে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় এই কাজটি খুব সহজে সম্পন্ন করতে পারেন।


অনলাইনে একাউন্ট করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আপনি সরাসরি ব্যাংকের অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ঘরে বসে আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য আপনার কাছে একটি সচল স্মার্টফোন এবং প্রয়োজনীয় কিছু ব্যক্তিগত কাগজপত্র থাকলেই খুব সহজে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব। দেশের বড় বড় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এখন প্রবাসীদের জন্য বিশেষ একাউন্ট খোলার ডিজিটাল সুবিধা দিচ্ছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাই কোন ঝামেলা বা অতিরিক্ত টাকা খরচ না করে নিজে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে দেশের একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলা উচিত। আমাদের এই সম্পূর্ণ গাইডলাইনটি আপনাকে কোন বাধা ছাড়াই সুদূর প্রবাসে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে সাহায্য করবে। তাই নিজের সঞ্চয় এবং রেমিটেন্সের সুরক্ষায় আজই সৌদি আরবে বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করার পদ্ধতি মেনে কাজ শুরু করে দিন। 

প্রবাসী ব্যাংক একাউন্ট তৈরির প্রাথমিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ইকামার ভূমিকা

অনলাইনে একাউন্ট খোলার মূল কাজ শুরু করার আগে কিছু অত্যন্ত প্রয়োজনও ডকুমেন্টস নিজের হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা দরকার। আপনার সচল পাসপোর্ট, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি কার্ড এবং সৌদি আরবের আবাসিক অনুমতি পত্র বা ইকামার কপি সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।এই প্রাথমিক কাজগুলো ঠিকঠাক থাকলে সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি অনুযায়ী মাত্র কয়েক মিনিটে আবেদনের কাজ শেষ করা সম্ভব। ফর্মে দেওয়া তথ্যের সাথে আপনার পাসপোর্ট এর তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক, না হলে ব্যাংকের ভেরিফিকেশন টিম আপনার আবেদনটি সরাসরি বাতিল করে দিবে। তাই সব ডকুমেন্ট আগেই টেবিলে সাজিয়ে নিন যেন ফর্ম পূরণের সময় কোন ভুল বা তাড়াহুড়া না হয়।

মনে রাখবেন, সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী আপনার ইকামা অবশ্যই সচল বা ভ্যালিড থাকতে হবে, কারণ এক্সপায়ার ইকামার তথ্য ব্যাংক গ্রহণ করবে না। এছাড়া আপনার একটি সচল সৌদি আরবের মোবাইল নাম্বার এবং ব্যক্তিগত ইমেইল আইডি প্রস্তুত রাখবেন যা দিয়ে ব্যাংকের পোর্টালে ওটিপি কোড ভেরিফাই করতে হবে। এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর আপনি নির্দিষ্ট ব্যাংকের অ্যাপ এ গিয়ে নতুন আবেদন করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারবেন। সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করলে পুরো প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের টেকনিক্যাল বা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে না। তাই ফর্মের প্রতিটি ঘর পূরণের আগে ডকুমেন্টের সাথে বানানগুলো ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি এর একটি অন্যতম প্রধান অংশ। 

প্রবাসীদের জন্য রেমিটেন্স একাউন্ট এবং এনআরবি একাউন্টের মূল পার্থক্য

ব্যাংক একাউন্ট খোলার আগে প্রবাসীদের এটা জানা দরকার যে ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের জন্য মূলত দুই ধরনের বিশেষ অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিয়ে থাকে। একটি হল সাধারণ রেমিটেন্স একাউন্ট যেখানে শুধু বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা জমা হয় এবং অন্যটি হলো নন রেসিডেন্স টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআরবি একাউন্ট। আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং টাকা ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি জেনে সঠিক অ্যাকাউন্ট টাইপ বেছে নিতে হবে। সাধারণ রেমিটেন্স একাউন্টে আপনি যেকোনো সময় সৌদি আরবের স্থানীয় মানি এক্সচেঞ্জ বা অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজে টাকা পাঠাতে পারবেন। অন্যদিকে এনআরবি একাউন্টের মাধ্যমে আপনি দেশের শেয়ার বাজার, বন্ড বা বিভিন্ন লাভজনক সরকারি প্রজেক্ট এর সরাসরি বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন। 

এই দুই ধরনের একাউন্টের ব্যাংকিং সুবিধা এবং চার্জের ক্ষেত্রেও কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়, যা অ্যাকাউন্ট খোলার আগেই জেনে নেওয়া ভালো। আপনি যদি শুধু পরিবারকে টাকা পাঠাতে এবং সামান্য সঞ্চয় করতে চান, তবে রেমিটেন্স একাউন্ট বা প্রবাসী সেভিংস একাউন্ট আপনার জন্য বেস্ট হবে। আর আপনি যদি প্রবাসে বড় ব্যবসা করেন বা দেশে বড় কোন বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকে, তবে এনআরবি একাউন্ট খোলা উচিত। নিজের প্রয়োজন এবং সুবিধার কথা চিন্তা করে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে এই অ্যাকাউন্টের ধরনটি সিলেক্ট করা উচিত। কোন ধরনের ঝুঁকি বা ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে খুব শান্ত মাথায় সৌদি আরবে বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি মেনে আপনার একাউন্টের ধরনটি সম্পন্ন করুন।

সোনালী ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংকে প্রবাসী একাউন্ট চালু করার নিয়ম

বাংলাদেশের সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংক প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় এক ধাপ এগিয়ে থাকে। এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের জন্য বিশেষ রেমিটেন্স অ্যাপ নিয়ে এসেছে যার মাধ্যমে ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ সম্পন্ন করা যায়।সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি অনুসরণ করে এই ব্যাংকগুলোতে আবেদন করতে পারেন। সোনালী ব্যাংকের' সোনালী ই-সেবা' অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে খুব দ্রুত একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর জেনারেট করতে পারেন। একাউন্ট খোলার পর আপনি সরাসরি সৌদি আরব থেকে এই সরকারি ব্যাংকগুলোতে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন কোন বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই। 

অগ্রণী ব্যাংক ও প্রবাসীদের জন্য একই ধরনের ডিজিটাল সুবিধা দিচ্ছে যেখানে তাদের বিশেষ প্রবাসীর মাধ্যমে একাউন্ট খোলা যায়। সরকারি ব্যাংকগুলোতে অ্যাকাউন্ট খোলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে আপনার জমানো টাকার শতভাগ সরকারি নিরাপত্তা বা গ্যারান্টি থাকে। এছাড়া সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠালে সরকার ঘোষিত প্রণোদনার টাকা খুব দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয়ে যায়। তাই অনেক প্রবাসী ভাই তাদের কষ্টে অর্জিত অর্থের সুরক্ষায় সরকারি ব্যাংকের ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা এবং বিশ্বাস রাখতে পছন্দ করেন। সঠিক ব্যাংকিং অ্যাপ ডাউনলোড করে কাজ শুরু করা সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি এর একটি অন্যতম বিশ্বস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এ সেলফিন অ্যাপ দিয়ে একাউন্ট খোলার নিয়ম 

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড বা আইবিবিএল প্রবাসীদের কাছে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। এই ব্যাংকের আধুনিক ডিজিটাল প্লাটফর্ম 'CELLFIN' অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন। এ আধুনিক অ্যাপের সুবিধা নিতে হলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রবাসীদের পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। একটি প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে প্রথমে আপনার সৌদি আরবের মোবাইল নাম্বার এবং পাসপোর্ট দিয়ে একটি একাউন্ট রেজিস্টার করতে হবে। এরপর অ্যাপের ভেতরে থাকা অপশনে গিয়ে আপনার প্রয়োজনে সব তথ্য সাবমিট করতে হবে।


সেলফি অ্যাপের মাধ্যমে একাউন্ট খোলার সবচেয়ে বড় ট্রিকস হলো এখানে আপনি সাথে সাথেই একটি ভার্চুয়াল ডেবিট কার্ড এবং একাউন্ট নাম্বার পেয়ে যাবেন। এই একাউন্টের মাধ্যমে আপনি সৌদি আরবের যেকোন ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে সরাসরি টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন। ইসলামী ব্যাংকের বিশাল নেটওয়ার্কের কারণে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা আপনার পরিবার হোক সহজে এবং দ্রুত টাকা তুলতে পারবে। তাই বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্মার্টলি ব্যাংকিং করতে চাইলে এই সেলফি অ্যাপ ব্যবহার করাই আপনার জন্য সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত হবে। অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি মেনে এই অ্যাপের মাধ্যমে শেষ করুন।

এনআইডি বা জাতীয় পরিচয় পত্র ছাড়া শুধুমাত্র পাসপোর্ট দিয়ে আবেদন করার নিয়ম

অনেক প্রবাসী ভাইদের একটি বড় সমস্যা হল তাদের কাছে বাংলাদেশের নতুন স্মার্ট কার্ড বা এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র টি থাকে না। তবে সুখবর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী প্রবাসীরা চাইলে NID কার্ড ছাড়াই শুধুমাত্র 'PASSPORT' দিয়ে একাউন্ট খুলতে পারবেন। এই বিশেষ সুবিধার সঠিক ব্যবহার জানতে এবং ফর্ম পূরণ করতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি ভালোভাবে জানা থাকা উচিত। ফরম পূরণের সময় এনআইডি অপশন এর পরিবর্তে আপনাকে পাসপোর্ট অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে এবং পাসপোর্ট এর নম্বরটি দিতে হবে। এরপর আপনার পাসপোর্ট এর প্রথম পাতার একটি পরিষ্কার ছবি আপলোড করে দিতে হবে।

পাসপোর্ট দিয়ে একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ বা এক্সপায়ারি ডেট যেন ঠিক থাকে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার পাসপোর্ট এর তথ্যটি ইমিগ্রেশন ডাটাবেজের সাথে মিলিয়ে দেখবে যে আপনার তথ্যটি আসল এবং বৈধ কিনা। এনআইডি কার্ড না থাকলেও শুধুমাত্র পাসপোর্ট দিয়ে একাউন্ট খোলার এ নিয়মটি প্রবাসীদের জন্য একটি অত্যন্ত বড় আশীর্বাদ। এর ফলে হাজার হাজার প্রবাসী ভাই তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকার পরেও আইনিভাবে দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমের সাথে যুক্ত হতে পারছেন। কোন তথ্য গোপন না করে পাসপোর্ট এর সঠিক তথ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

প্রবাসীদের ব্যাংক একাউন্টে নমিনি সিলেকশন এবং তার কাগজের গুরুত্ব

যেকোনো ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময় একজন বিশ্বস্ত মানুষ কেন ম্যান হিসেবে সিলেক্ট করা আইনিভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নয়নের গুরুত্ব আরো অনেক বেশি, কারণ প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে এই একাউন্টের টাকার বৈধ মালিক বা দাবিদার হয়ে থাকেন। এই নমিনির তথ্য ফর্মে সঠিকভাবে যুক্ত করার জন্য সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি গাইডটি আপনাকে সাহায্য করবে। ফরমে নমিনের পুরো নাম, আবেদনকারীর সাথে তার সম্পর্ক এবং নমিনির একটি সচল এনআইডি কার্ডের নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া নমিনির এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ফর্মে আপলোড করা বা সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।


সাধারণত প্রবাসীরা তাদের মা, বাবা, ভাই,বোন বা স্ত্রী কে নমিনি করতে বেশি পছন্দ করেন যা অত্যন্ত নিরাপদ ও যুক্তিযুক্ত। অনেকেই নমিনির অংশে ভুল তথ্য দেন বা অবহেলা করেন, যা পরবর্তীতে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে পরিবারকে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় ফেলে দেয়। তাই আপনার অ্যাকাউন্ট কে পুরোপুরি আইনি সুরক্ষায় রাখতে নমিনিনের প্রতিটি তথ্য আপনার মূল কাগজের সাথে মিলিয়ে দেওয়া উচিত। সিলেক্ট করে তার তথ্য দেওয়া আপনার একাউন্টের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং আইনি জটিলতা দূর করতে সাহায্য করে। তাই পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অত্যন্ত যত্ন সহকারে সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি মেনে এই অংশটি সম্পন্ন করুন।

আয়ের উৎস বা সেলারি সার্টিফিকেট পেপার্স সাবমিট করার সঠিক গাইডলাইন

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী যে কোন নতুন একাউন্ট খোলার সময় আয়ের উৎস দেখানো বাধ্যতামূলক। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে তারা সৌদি আরবে কি কাজ করছেন এবং তাদের মাসিক বেতন কত, তার একটি প্রমাণ পত্র ব্যাংকে জমা দিতে হয়। এআইয়ের উৎসের কাগজটি সঠিকভাবে আপলোড করার নিয়ম জানতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি ভালো করে বুঝতে হবে। সার্টিফিকেট অথবা আপনার কাজের চুক্তিপত্র বা এগ্রিমেন্ট পেপার এর ছবি এখানে ব্যবহার করতে পারেন। যদি আপনি কোন ফ্রি ভিসা বা ছোট কাজ করেন, তবে আপনার পেশা অনুযায়ী একটি আয়ের বিবরণী লিখে দিতে পারেন।

এই সেকশনটি ঝামেলা হীন ভাবে পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ব্যাংক অফিসাররা আপনার আয়ের উৎস দেখেই অ্যাকাউন্টটি চূড়ান্ত অনুমোদন বা এপ্রোভাল দেবেন। কোন ধরনের ভুয়া বা জাল স্যালারি সার্টিফিকেট দিলে আপনার আবেদনটি সরাসরি রিজেক্ট বা বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বর্তমান সময়ে ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের আয়ের উৎসের ব্যাপারে বেশ নমনীয়, তাই আসল কাগজের ছবি দিলেই কোন সমস্যা হয় না। আয়ের সঠিক তথ্য দিলে আপনার অ্যাকাউন্টটি আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সুরক্ষিত থাকবে এবং বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন আইনি নোটিশ আসবেনা। আপনার দেওয়া প্রতিটি তথ্য যেন আপনার কাজের সাথে মেলে তা নিশ্চিত করাই হলো সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি এর মূল উদ্দেশ্য।

সৌদি আরবের স্থানীয় ব্যাংক থেকে বাংলাদেশী ব্যাংকে টাকা পাঠানোর সহজ উপায়

দেশের সফলভাবে একাউন্ট খোলার পর পরবর্তী কাজ হল সৌদি আরবের স্থানীয় ব্যাংক বা ওয়ালেট থেকে সেই একাউন্টে টাকা পাঠানো। সৌদি আরবের বিখ্যাত ব্যাংক যেমন আল রাজি বা আল ইনমা ব্যাংকের রেমিটেন্স কাউন্টার থেকে সরাসরি আপনার বাংলাদেশে একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন। এ টাকা পাঠানোর আধুনিক ও সহজ ডিজিটাল ফিক্সড গুলো জানতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি সংক্রান্ত গায়ত্রী মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন। বর্তমানে প্রবাসীরা কোন ব্যাংকে না গিয়ে সরাসরি তাদের মোবাইল থেকে এস টি সি পেয়ে বা ইউ আর পে অ্যাপের মাধ্যমে টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন। এই অ্যাপগুলোতে আপনার বাংলাদেশে ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার এবং রাউটিং নাম্বার যুক্ত করে দিলেই মুহূর্তের মধ্যে টাকা চলে যাবে।

ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে টাকা পাঠানোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে রিয়েল টাইম এক্সচেঞ্জ রেট বা রিয়ালের সর্বোচ্চ রেট পাওয়া যায়। এছাড়া এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে টাকা পাঠালে সার্ভিস চার্জ বা ফ্রি অনেক কম কাটে যা সাধারণ প্রবাসীদের জন্য বেশ সাশ্রয়ী। টাকা পাঠানোর সাথে সাথেই আপনার বাংলাদেশে একাউন্টের রেজিস্টার্ড মোবাইলে এবং ইমেইলে একটি কনফার্মেশন মেসেজ চলে আসবে। তাই ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট না করে এই আধুনিক ডিজিটাল ওয়ালেট গুলো ব্যবহার করাই আপনার জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সঠিক অ্যাপ বেছে নিয়ে অ্যাকাউন্টে রেমিটেন্স পাঠানোর সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি এর অত্যন্ত আনন্দদায়ক একটি ধাপ।

বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে সরকারি প্রণোদনা ও বোনাস পাওয়ার সুবিধা

 বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত করার জন্য রেমিটেন্সের ওপর বিশেষ নগদ প্রণোদনা বা বোনাস সুবিধা দিচ্ছে। আপনি যখনই কোন বৈধ ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ এর মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন, তখন মূল টাকার সাথে অতিরিক্ত ২.৫% বা তার বেশি টাকা যোগ হবে। এই সরকারি বোনাসের টাকা সরাসরি কিভাবে আপনার একাউন্টে যোগ হবে তা জানতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি জানা থাকা দরকার। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি সৌদি আরব থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে .১০০০০০ টাকা পাঠান তবে আপনার পরিবার মোট ১,০২,৫০০ টাকা বা তার বেশি পাবেন। এই বোনাসের টাকা পাওয়ার জন্য প্রবাসীকে আলাদা কোন ফরম পূরণ বা বাড়তি কোনো আবেদন করতে হয় না। 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অটোমেটিকলি হিসাব করে এই সরকারি প্রণোদনার টাকা আপনার মূল একাউন্টে বা নমিনির হাতে বুঝিয়ে দিয়ে থাকে। অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠালে এই আকর্ষণীয় বোনাস পাওয়া যায় না এবং দেশের আইনের চোখে তা একটি বড় অপরাধ। তাই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এবং নিজের উপার্জনের ওপর বাড়তি লাভ পেতে সব সময় বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা উচিত। আপনার একটি নিজস্ব একাউন্ট থাকলে এই প্রণোদনার টাকা সরাসরি আপনার নিজের একাউন্টে জমা হয়ে ভবিষ্যৎ সঞ্চয় হিসেবে জমা থাকবে। কোন ঝামেলা ছাড়া সরকারি বোনাস উপভোগ করার জন্যই মূলত সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি মেনে একটা নিজস্ব একাউন্ট থাকা জরুরী।

প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স বন্ড এবং সরকারি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ

প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য দেশের মাটিতে নিরাপদ বিনিয়োগ করার অন্যতম সেরা মাধ্যম হলো সরকারি ওয়েজ আর্নার্স কর্পোরেট বন্ড এবং সঞ্চয়পত্র। আপনার সৌদি আরবের কষ্টে অর্জিত টাকা শুধু ব্যাংকে ফেলে না রেখে এই বন্ডগুলোতে বিনিয়োগ করলে প্রতিবছর চমৎকার মুনাফা পাওয়া সম্ভব। এই লাভজনক বিনিয়োগের সঠিক গাইড জানতে আমাদের এই সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি পোস্টটি আপনাকে পুরোপুরি সাহায্য করবে। আপনার নামে একটি এনআরবি বা প্রবাসী একাউন্ট থাকলে আপনি সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমেই এই সরকারি বনগুলো কিনতে পারবেন। এই বর্ণগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এগুলো সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত এবং সরকার নিজে এই লাভের টাকার গ্যারান্টি দিয়ে থাকে।

বিনিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মুনাফা সহ মূল টাকা সরাসরি আপনার বাংলাদেশী ব্যাংক একাউন্টে অটোমেটিকলি ভাবে জমা হয়ে যাবে যা অত্যন্ত সুবিধা জনক। অনেকে প্রবাসে থেকে টাকা কোথায় ইনভেস্ট করবেন তা ভেবে পান না এবং ভুল জায়গায় টাকা দিয়ে প্রচারিত হন তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের এই বিশেষ প্রবাসী বন্ড স্কিমটি হতে পারে জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ এবং সেরা ইনভেস্টমেন্ট অপশন। তাই প্রবাস জীবনের শেষ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এখন থেকে অল্প অল্প করে টাকা জমানো এবং বিনিয়োগ করা উচিত। সুরক্ষিত করতে সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি মেনে একাউন্ট খুলে বিনিয়োগ শুরু করুন।

অনলাইন আবেদনের পর কত দিনের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল ও একটিভ হয়

অনেকের মনে এই প্রশ্নটি থাকে যে অনলাইনে সমস্ত তথ্য এবং কাগজপত্র সাবমিট করার পর অ্যাকাউন্টটি চূড়ান্তভাবে কবে চালু হবে। সাধারণত আপনি অ্যাপ এর মাধ্যমে ফর্ম সাবমিট করার পর ব্যাংকের ব্যাক অফিস টিম আপনার দেওয়া প্রতিটি তথ্য ম্যানুয়ালি ভেরিফাই করে দেখে। এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া এবং একাউন্ট সচল হওয়ার সঠিক সময়সীমা জানতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি গাইডটি খেয়াল করুন। যদি আপনার দেওয়া সব কাগজ (পাসপোর্ট, ইকামা, ছবি) একদম পরিষ্কার এবং সঠিক থাকে তবে সাধারণত দুই থেকে তিন কার্য দিবস এর মধ্যে অ্যাকাউন্ট  একটিভ হয়ে যায়। একাউন্টটি সফলভাবে সচল হওয়ার সাথে সাথেই আপনার ইমেইলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি অফিশিয়াল কনফার্মেশন লেটার পাঠানো হবে। 

তবে কোন কারনে যদি আপনার ডকুমেন্টে কোন অস্পষ্টতা বা ভুল থাকে, তবে ব্যাংক অফিসার আপনার সাথে ইমেইলে বা ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন। তখন আপনাকে পুনরায় সঠিক কাগজটি আপলোড করতে হবে, যার কারণে অ্যাকাউন্ট সচল হতে কিছুটা বাড়তি সময় লাগতে পারে। সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনে একটু বেশি সময় লাগলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে খুব দ্রুত একাউন্ট চালু করে দেয়। একাউন্ট একটিভ হওয়ার পর আপনি কোন বাধা ছাড়াই সরাসরি সৌদি আরব থেকে যে কোন পরিমাণ টাকা সে একাউন্টে জমা করতে পারবেন। তাই সঠিক নিয়মে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি মেনে চলা আপনার দায়িত্ব।

প্রবাসী ব্যাংক একাউন্টের সাথে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ বা রকেট লিংক করার নিয়ম

বর্তমান বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএসএস সেবা যেমন বিকাশ রকেট বা নগদ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রবাসীরা ও চান তাদের দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে যেন এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গুলো সরাসরি লিংক বা যুক্ত করা থাকে। এই ডিজিটাল লিংকিং প্রসেসটি অত্যন্ত সহজে সম্পন্ন করার জন্য সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি। আপনার ব্যাংক একাউন্ট সচল হওয়ার পরে আপনি বিকাশের ব্যাংক টু এনজিও বা অ্যাড মানি অপশনে গিয়ে আপনার ব্যাংকটি সিলেক্ট করতে পারবেন। এরপর ব্যাংকের ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলে আপনার একাউন্টটি বিকাশের সাথে সফলভাবে লিংক হয়ে যাবে।

একাউন্টে লিংক হয়ে গেলে আপনি সৌদি আরবে বসেই আপনার ব্যাংক থেকে মুহূর্তের মধ্যে বিকাশে টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন কোন খরচ ছাড়াই। এর ফলে বাংলাদেশে থাকা আপনার পরিবার মাঝরাতে বা যে কোন ছুটির দিনেও খুব সহজে বিকাশের দোকান থেকে টাকা ক্যাশ আউট করতে পারবে। এই আধুনিক সুবিধার কারণে প্রবাসীদের এখন আর ব্যাংকের কর্ম দিবস বা অফিস খোলার সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রবাসীদের জীবনকে আরো সহজ করতে এ ধরনের ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। তাই নিজের ব্যাংকিং কে আরো গতিশীল এবং আধুনিক করতে আজই সৌদি আরবের বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি মেনে একাউন্ট লিংক করে নিন।

একাউন্ট খোলার পর ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড এবং চেক বই পাওয়ার উপায়

ব্যাংক একাউন্ট সফল ভাবে চালু হওয়ার পর গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে ব্যাংক থেকে চেক বই এবং একটি ডুয়েল কারেন্সি এটিএম বা ডেবিট কার্ড দেওয়া হয়। প্রবাসীরা যেহেতু দেশের বাইরে থাকেন, তাই তারা চাইলে এই কার্ড এবং চেক বই তাদের মনোনীত নমিনির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। এই কার্ড সংগ্রহের সঠিক আইনি নিয়ম এবং অথরাইজেশন প্রসেস জানতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি ভালভাবে বুঝতে হবে। যে আপনি কার্ডটি সঠিক কিভাবে সংগ্রহ করতে চান, সেখানে 'VIA NOMINI' সিলেক্ট করতে হবে। এরপর ব্যাংক থেকে আপনার নমিনিকে ফোন করে নির্দিষ্ট ব্রাঞ্চে এসে কার্ড ও চেক বই নিয়ে যাওয়ার জন্য বলতে হবে।

আপনার নমিনি যখন ব্যাংকে যাবেন, তখন প্রবাসী দ্বারা অথরাইজেশন লেটার বা অনুমতিপত্র এবং নমিনির নিজস্ব NID কার্ড সাথে নিয়ে যেতে হবে। এই আন্তর্জাতিক ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আপনি সৌদি আরবে বসেই আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে কেনাকাটা বা বিল পেমেন্ট করতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশে আপনার পরিবার এই কার্ড ব্যবহার করে যেকোনো এটিএম বুথ থেকে একদম ফ্রিতে বা কম খরচে টাকা তুলতে পারবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রায় সব ব্যাংকই এখন প্রবাসীদের এই চমৎকার ভিসা বা মাস্টার কার্ডের আন্তর্জাতিক সুবিধা এবং ফ্রি বা নামমাত্র মূল্যে দিচ্ছে। তাই কোন ঝামেলা ছাড়া এই আকর্ষণীয় কার্ডের সুবিধা পেতে আজকেই সৌদি আরবে বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি মেনে আবেদন করুন।

শেষ কথাঃ সৌদি আরবে বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি

সৌদি আরবে বাংলাদেশ ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি গুলো জানার পরে পরিশেষে বলা যায়, সুদূর প্রবাসে থেকে দেশের মাটিতে একটি নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকা প্রতিটি প্রবাসী ভাইয়ের জন্য একটি বড় শক্তি এবং গর্ভের বিষয়। আমরা এই পোস্টে অত্যন্ত সহজ ভাষায় এবং প্রতিটি ধাপ সুনির্দিষ্ট ভাবে আলোচনা করেছি যেন কোন সাধারণ মানুষ এটি পড়ে নিজে নিজেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। আশা করি আমাদের সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি সংক্রান্ত এই বিশেষ গাইডটি আপনার অনলাইন ফর্ম পূরণের যাত্রা কে অনেক সহজ সফল করে তুলবে। তাই আজই কোন বিধান না করে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে আপনার পছন্দের ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আপনার আবেদনটি তৈরি করে ফেলুন। 


ডিজিটাল মাধ্যমে সঠিক ব্যবহার আমাদের জীবনযাত্রাকে যেমন সহজ করে, তেমনি সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া কেউ করে তোলে স্বচ্ছ, আধুনিক ও দুর্নীতি মুক্ত। নিজের একটি নির্ভুল একাউন্ট থাকলে আপনি নিজেই আপনার পাসপোর্ট এর বা অন্যান্য খরচের টাকা ও প্রবাসে বসেই সরাসরি পে করতে পারবেন। এই তথ্যবহুল গাইডটি আপনার উপকারে আসলে অবশ্যই এটি আপনার সৌদি আরবে থাকা অন্য প্রবাসী বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যেন তারা উপকৃত হতে পারে। আমাদের TMPEAK ব্লগের এই বিশেষ নির্দেশনা গুলো মেনে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখুন এবং একজন স্মার্ট রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Monirul Islam
Md. Monirul Islam
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও Tm Peak ব্লগার ওয়েবসাইট এর ওনার। তিনি অনলাইন ইনকাম, লাইফস্টাইল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ।