BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স আকাউন্ট খোলার গাইড 2026

বাংলাদেশের বৈধভাবে মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালাতে চাইলে বিআরটিএ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ঘরে বসেই লাইসেন্সের আবেদন করার জন্য একটি অনলাইন একাউন্ট থাকা অত্যন্ত জরুরী।

BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স আকাউন্ট খোলার গাইড
আজকের এই পোস্টটিতে আমরা খুব সহজ ভাষায় অ্যাকাউন্ট খোলার পুরো নিয়মটি ধাপে ধাপে আলোচনা করব। সম্পূর্ণ তথ্য জানতে BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড পোস্টটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। 

পেজ সূচিপত্রঃ BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড

BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড

BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন সরকারি প্রায় সব সেবা অনলাইন এর আওতায় চলে এসেছে, তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে বিআরটিএ চালু করেছে অনলাইন পোর্টাল। এই পোর্টালে একটি ব্যক্তিগত একাউন্ট খোলার মাধ্যমে আপনি লাইসেন্সের যাবতীয় কাজ ঘরে বসে করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আজ আমরা বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি। সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনেকেই দালালের খপ্পরে পড়েন এবং অতিরিক্ত টাকা অপচয় করেন। অথচ সামান্য কিছু নিয়ম ফলো করলেই আপনি নিজে নিজেই এই একাউন্ট খুব সহজে তৈরি করে নিতে পারেন। এর জন্য আপনার কোন বাড়তি টেকনিক্যাল জ্ঞানের প্রয়োজন নেই শুধুমাত্র একটি সচল ইন্টারনেট কানেকশন এবং সাধারণ কিছু নির্দেশনা মেনে চললেই আপনি সফলভাবে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়

অনলাইনে একটা অ্যাকাউন্ট থাকলে আপনাকে বারবার বিআরটিএ (BRTA) অফিসে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না লার্নার লাইসেন্স থেকে শুরু করে মূলত স্মার্ট কার্ড পাওয়ার প্রতিটি ধাপ আপনি এখান থেকেই ট্র্যাক করতে পারবেন তাই এই ডিজিটাল যুগে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে নিজের কাজ নিজে করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে আমাদের এই সহজ গাইডলাইনটি আপনাকে কোন ঝামেলা ছাড়াই একটি ভেরিফাইড প্রোফাইল তৈরি করতে সাহায্য করবে তাই নিজের সময় ও টাকা বাঁচাতে হাজির ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড মেনে আপনার একাউন্টটি তৈরি করে ফেলুন এই একাউন্টের মাধ্যমে আপনি ভবিষ্যতের সব ধরনের লাইসেন্স নবায়ন ও সংশোধনের কাজও খুব সহজে এক ক্লিকে হ্যান্ডেল করতে পারবেন।

অনলাইন প্রোফাইল তৈরির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রস্তুতি

বিআরটিএ (BRTA) পোর্টালে নতুন একাউন্ট খোলার কাজ শুরু করার আগে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা দরকার। একাউন্ট খোলার সময় আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র বা এন আই ডি কার্ডের নাম্বার এবং জন্ম তারিখ সঠিকভাবে দিতে হবে এছাড়া একটি সচল মোবাইল নাম্বার এবং একটি ব্যক্তিগত ইমেইল ঠিকানার প্রয়োজন হবে যা দিয়ে একাউন্ট ভেরিফাই করা যায় এ প্রাথমিক প্রস্তুতিগুলো ঠিকঠাক থাকলে বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড অনুযায়ী মাত্র কয়েক মিনিটেই প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব কোন তথ্য ভুল হলে পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনে সমস্যা হতে পারে তাই সব কাগজপত্র আগেই মিলিয়ে রাখুন কাগজের তথ্য গুলোর সফট কপি বা ছবি মোবাইলে সেভ করে রাখলে ফরম পূরণের সময় বারবার আইডি কার্ড খোঁজার ঝামেলা পোহাতে হয় না

মনে রাখবেন আপনি যে মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করবেন সেটি যেন অবশ্যই আপনার নিজের এনআইডি দিয়ে রেজিস্টার্ড করা থাকে কারণ বিআরটিএ পোর্টাল থেকে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি আপনার এই নাম্বারে পাঠানো হবে এছাড়া আপনার একটি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি কম্পিউটারে বা মোবাইলে স্ক্যান করে সেভ করে রাখুন এইসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর আপনি সার্ভিস পোর্টাল একাউন্ট তৈরির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করলে পুরো প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের টেকনিক্যাল জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে না আপনার রক্তের গ্রুপের সার্টিফিকেট ওর সাথে রাখতে পারেন কারণ প্রোফাইল শতভাগ নির্ভুল করতে এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে

বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল বা বিএসপি ওয়েবসাইটে প্রবেশ

একাউন্ট খোলার প্রথম ধাপ হলো বিআরটিএ এর অফিসিয়াল সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ করা যা সংক্ষেপে বিএসপি পোর্টাল নামে পরিচিত আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের যেকোনো একটি ভালো ব্রাউজার যেমন গুগল ক্রোম ওপেন করে সার্চ বক্সে বিএসপি ডট বি আর টি এ.gov.bd লিখে ইন্টার যাপন চাপুন এই লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথে আপনাকে বিআরটিএ এর মূল অনলাইন ডেসকোডে নিয়ে যাওয়া হবে যারা প্রথমবার এই সাইটে আসছেন তাদের সুবিধার্থেই আমরা বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড ধাপে ধাপে সাজিয়েছি ওয়েবসাইটটি পুরোপুরি লোড হওয়ার পর আপনি স্ক্রিনের উপরের দিকে নিবন্ধন বার রেজিস্টার নামক একটি অপশন দেখতে পাবেন এই লিংকে ক্লিক করার সময় নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি কোন ফেক বা নকল সাইটে প্রবেশ করছেন না।

সরকারি এই ওয়েবসাইটটি অত্যন্ত ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং এটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতে ব্যবহার করা যায় ইন্টারনেটের স্পিড ভালো থাকলে সাইটটি খুব দ্রুত ওপেন হয় এবং এর এর ইন্টারফেস দেখে সহজেই পরবর্তী ধাপগুলো বোঝা যায় অনেক সময় সার্ভারে অতিরিক্ত চাপের কারণে সাইট স্লো হতে পারে সে ক্ষেত্রে কিছুটা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে আপনি যদি সঠিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেন তবে ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হল এবার স্ক্রিনে থাকা নিবন্ধন বাটনে ক্লিক করে মূল অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্মে চলে যেতে হবে এই পোর্টালে একবার প্রবেশ করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে নাগরিক জীবন কতটা সহজ ও গতিশীল হয়ে উঠেছে। 

সঠিক তথ্য দিয়ে নতুন ইউজার রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

নিবন্ধন বাটনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি অনলাইন ফর্ম চলে আসবে যা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে ফর্মে আপনার নাম জন্ম তারিখ এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর হুবহু এনআইডি কার্ডের মত করে লিখতে হবে নিজের ইচ্ছামত ভুল বা কাল্পনিক তথ্য দিয়ে ডাটা গ্রহণ করবে না এবং আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে না এ ফর্মে ভুল এড়াতে আমাদের বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড আপনাকে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করছে তবে সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে নিচে আপনার পাসওয়ার্ড সেট করার অপশন পাবেন যা অবশ্যই একটু শক্তিশালী হতে হবে পাসওয়ার্ড এর মধ্যে ইংরেজি বড় ও ছোট হাতের অক্ষরের পাশাপাশি কিছু সংখ্যা ব্যবহার করা নিরাপত্তার জন্য সব সময় বেশ ভালো। 

রেজিস্ট্রেশন ফর্ম এর প্রতিটি ঘর বাক্সের পাশে লাল রঙের তারকা চিহ্ন দেওয়া থাকে যার অর্থ এই ঘরগুলো পূরণ করা বাধ্যতামূলক নাম লেখার সময় কোন বানান ভুল করা যাবেনা কারণ এ তথ্যের উপর ভিত্তি করেই আপনার ভবিষ্যতের লাইসেন্স তৈরি হবে আপনি যদি নিজে এই তথ্যগুলো টাইপ করতে ভয় পান তবে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিয়ে ফর্মটি পূরণ করতে পারেন সঠিক তথ্য দিয়ে ফরমটি সাবমিট করার পরেই মূলত বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইডের আসল কাজ শুরু হয় ফরমের সব তথ্য পুনরায় চেক করে নিয়ে নিচে থাকা সাবমিট বার নিবন্ধন করুন বাটনে ক্লিক করুন একবার সাবমিট হয়ে গেলে কিছু পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে তাই তাড়াহুড়ো না করে ধীরেসস্থে ফর্মটি ফিলাপ করুন

মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল ভেরিফিকেশন করার সহজ উপায়

ফর্ম সাবমিট করার পর আপনার দেওয়া মোবাইল নাম্বারে সাথে সাথে একটি গোপন otp কোড চলে যাবে এই কোডটি ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে ভেরিফাই বাটনে ক্লিক করতে হবে যা আপনার নম্বরের সত্যতা নিশ্চিত করে মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন করা অত্যন্ত জরুরী কারণ এর মাধ্যমে বিআরটিএ নিশ্চিত হয় যে আপনি একজন প্রকৃত ব্যবহারকারী। এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একইভাবে আপনার ইমেইল ঠিকানায় একটি ভেরিফিকেশন লিংক পাঠানো হতে পারে যেখানে ক্লিক করে ইমেইলটি সচল করতে হয় ইমেইল সচল রাখলে ভবিষ্যতের যে কোন সিকিউরিটি এলার্ট বা নোটিফিকেশন খুব দ্রুত আপনার কাছে সরাসরি পৌঁছে যাবে

যদি কোন কারনে এক মিনিটের মধ্যে মোবাইলে ওটিপি কোড না আসে তবে স্ক্রিনে থাকা রিসেন্ট বাটনে ক্লিক করে পুনরায় পাঠাতে পারেন মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে কোড আসতে কিছুটা দেরি হতে পারে তাই তাড়াহুড়া না করে অপেক্ষা করুন সফলভাবে ওটিপি সাবমিট করার পর স্ক্রিনে একটি অভিনন্দন মেসেজ দেখাবে যে আপনার প্রাথমিক নিবন্ধন সফল হয়েছে এই ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়া মানে আপনার বিআরটিএ অনলাইন স্যার অনলাইন প্রোফাইল ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার একটি বড় ধাপ পার হয়ে গেল এখন আপনি আপনার সেট করা পাসওয়ার্ড এবং মোবাইল নাম্বার দিয়ে সিস্টেম লগইন করার জন্য প্রস্তুত এই কোডটি গোপন রাখা আপনার দায়িত্ব তাই এটি ভুলে অন্য কোন ব্যক্তির সাথে কখনো শেয়ার করবেন না

একাউন্টে লগইন করে ব্যক্তিগত প্রোফাইল অপটিমাইজেশন

প্রাথমিক একাউন্ট করার কাজ শেষ হলে এবার আপনাকে আপনার নতুন প্রোফাইলে লগইন করতে হবে ওয়েবসাইটের হোমপেজে গিয়ে লগইন অপশনে ক্লিক করুন এবং আপনার ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন ইন করুন লগইন করার পর প্রথম কাজই হলো আপনার প্রোফাইলটি সুন্দরভাবে সাজানো বা অপটিমাইজ করা এই প্রোফাইল সাজানোর সঠিক নিয়ম জানতে আমাদের বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাড়ি আপনাকে পুরোপুরি সাহায্য করবে প্রোফাইল অপশনে গিয়ে আপনার স্থায়ী ঠিকানা বর্তমান ঠিকানা এবং রক্তের গ্রুপ সঠিকভাবে সিলেক্ট করে দিন ঠিকানা লেখার সময় আপনার বর্তমান বসবাসের স্থানটি খুব নিখুঁতভাবে উল্লেখ করা উচিত যাতে ডাকযোগের সুবিধা পাওয়া যায়।


একটি সম্পূর্ণ ও নির্ভর প্রোফাইল আপনার লাইসেন্স এর আবেদন দ্রুত অনুমোদন পেতে সাহায্য করে থাকে প্রোফাইলে আপনার পিতামাতার নাম এবং জরুরী যোগাযোগের জন্য অন্য একটি মোবাইল নাম্বার যুক্ত করার অপশন রয়েছে এছাড়া আপনার পূর্বে স্ক্যান করে রাখা পাসপোর্ট সাইজের ছবিটি এখানে আপলোড করে দিতে হবে আপনি যদি প্রোফাইলের সব তথ্য হান্ড্রেড পার্সেন্ট সঠিকভাবে পূরণ করতে পারেন তবে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স পোর্টাল লগইন করার মূল উদ্দেশ্য সফল হবে সব তথ্য দেওয়ার শেষে নিচে থাকা প্রোফাইল আপডেট করুন বাটনে ক্লিক করে তথ্য গুলি স্থায়ীভাবে সেভ করে নিন প্রোফাইলটি আপলোড করার পর একবার রিফ্রেস করে দেখে নিন সব তথ্য সার্ভারে ঠিকঠাক মত সেভ হয়েছে কিনা

জাতীয় পরিচয় পত্র বা NID কার্ড এর তথ্য যাচাই করুন

বিআরটিএ একাউন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অংশ হলো আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র বা NID কার্ডের তথ্য নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজের সাথে যাচাই করা। প্রোফাইল সেকশনে একটি অপশন পাবেন যেখানে এনআইডি ভেরিফিকেশন এর জন্য অনুরোধ করা থাকে। আপনার এনআইডি নাম্বার এবং জন্ম তারিখে দিয়ে যাচাই করুন বাটনে ক্লিক করলে, সরকারি সার্ভার থেকে আপনার আসল ছবি তথ্য এখানে চলে আসবে তাই পুরো টেকনিক্যাল কাজটি কোন ঝামেলা ছাড়া সম্পন্ন করতে বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড মেনে চলা উচিত। এনআইডি ভেরিফাইড না হলে আপনি লাইসেন্সের জন্য কোন আবেদনই করতে পারবেন না। এই সিস্টেমটি জালিয়াতি বা ভুয়া লাইসেন্স তৈরির প্রবণতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।

মাঝে মাঝে নির্বাচন কমিশনের সার্ভার ডাউন থাকলে এই ভেরিফিকেশন এ কিছুটা "ত্রুটি" বা "Data Not Found" দেখাতে পারে। এমনটা হলে ভয়ের কিছু নেই কয়েক ঘন্টা পর বা পরের দিন আবার চেষ্টা করলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কানেক্ট হয়ে যায়। NID কার্ডের তথ্যের সাথে আপনার প্রোফাইলের তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় সিস্টেম এটি রিজেক্ট করে দিবে। সফলভাবে ভেরিফিকেশন শেষ হলে আপনার প্রোফাইলের পাশে একটি সবুজ রঙের ভেরিফাইড ব্যাচ বা চিহ্ন দেখতে পাবেন, এই চিহ্নটি পাওয়ার অর্থ হলো আপনি BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন এবং পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত। এই সবুজটি আপনার অ্যাকাউন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং বৈধতার আসল প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

একাউন্টের ড্যাশবোর্ড পরিচিতি ও বিভিন্ন ফিচারের ব্যবহার

আপনার অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর ড্যাশবোর্ডের বিভিন্ন ফিচার এর সাথে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন। ড্যাসবোর্ডের বাম পাশে একটি মেনু বার দেখতে পাবেন যেখানে লার্নার লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন ফি প্রদান এবং পরীক্ষার ফলাফল দেখার অপশন রয়েছে। এ ফিচারগুলো কোনটা কি কাজ করে তা সহজ ভাবে বুঝতে এই BRTA  ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড পোস্টটি আপনাকে সাহায্য করবে। এখান থেকে আপনি খুব সহজেই জানতে পারবেন যে আপনার লাইসেন্সের বর্তমান স্ট্যাটাস বা অবস্থা ঠিক কি পর্যায়ে আছে। এছাড়া বিআরটিএ এর বিভিন্ন ট্যাক্স কত টাকা তা এই দেশবোর্ড থেকেই হিসাব করা যায়। আপনি মেনু বারের প্রতিটি সেকশনে ক্লিক করে এর অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি খুব সহজে দেখে নিতে পারেন। 

ড্যাসবোর্ডের আরেকটি চমৎকার সুবিধা হল এখান থেকেই আপনি যে কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন বিকাশ, রকেট, নগদ) এর মাধ্যমে সরকারি ফি জমা দিতে পারবেন। ফি জমা দেওয়ার পর ডিজিটাল মানি রিসিট বা টাকা জমার রশিদ এখান থেকে সরাসরি ডাউনলোড করা সম্ভব। এর ফলে আপনাকে আর ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়ার জন্য সময় নষ্ট করতে হবে না। এক কথায় এই ড্যাশবোর্ডটি আপনার ডিজিটাল লাইসেন্স সহকারী হিসেবে কাজ করবে যা সব কাজকে হাতের মুঠোয় এনে দেয়। এই একাউন্টের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ শেষে সব সময় স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট থেকে লগ আউট করার অভ্যাস রাখুন। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের ব্যক্তিগত ডিভাইস ছাড়া অন্য কোথাও আইডি লগইন না করাই ভালো।

পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে একাউন্ট পুনরুদ্ধার করার নিয়ম

অনেকেই অ্যাকাউন্ট খোলার পর দীর্ঘদিন লগইন না করার কারণে নিজের পাসওয়ার্ডটি ভুলে যান। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই কারণ বিআরটিএ পোর্টালে অ্যাকাউন্ট রিকভারি বা পুনরুদ্ধার করার খুব সহজ ব্যবস্থা রয়েছে। লগইন পেজের ঠিক নিচেই পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন বা ফরগট পাসওয়ার্ড নামক একটি অপশন দেখতে পাবেন। এই অপশনটি ব্যবহার করে কিভাবে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করবেন তা আমাদের BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড এ সুন্দরভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। এই লিংকে ক্লিক করার পর আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরটি সেখানে দিতে হবে মোবাইল নম্বরটি সচল থাকলে এই রিকভারি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ দুই মিনিট সময় লাগবে।

মোবাইল নম্বরটি দিয়ে সাবমিট করলে আপনার ফোনে পুনরায় একটি সাময়িক পাসওয়ার্ড বা রিসেট OTP কোড পাঠানো হবে। সেই কোডটি ব্রাউজারে ইনপুট দিয়ে আপনি আপনার একাউন্টের জন্য একদম নতুন একটি স্ট্রং পাসওয়ার্ড সেট করে নিতে পারবেন। নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার সময় অবশ্যই তা কোথাও লিখে রাখুন বা মনে রাখার মত কোন কোড ব্যবহার করুন। একাউন্ট পুনরুদ্ধার করার এই সহজ সুবিধা থাকার কারণে আপনার পূর্বের কোন তথ্য বা আবেদন হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। তাই পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলেও আপনি বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড অনুসরণ করে যে কোন সময় আপনার প্রোফাইলটি ফিরে পেতে পারেন। এ ফিচারের কারণে আপনার পূর্বের ট্র্যাকিং হিস্ট্রি বা পেমেন্ট ডাটা সবসময় সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।

অ্যাপ এর মাধ্যমে বিআরটিএ একাউন্ট ব্যবহারের নিয়ম

বর্তমান সময়ে বিআরটিএ তাদের সেবা আরো সহজ করতে ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ ও চালু করেছে। আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে বিআরটিএ এর অফিশিয়াল অ্যাপটি আপনার স্মার্টফোনে খুব সহজে ইন্সটল করে নিতে পারেন। অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোন স্থান থেকে লাইসেন্সের অবস্থা চেক করা ওয়েবসাইটের চেয়েও অনেক বেশি দ্রুত ও কম সময় করা সম্ভব। এই অ্যাপটির সঠিক ব্যবহার জানতে আমাদের BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড এর এই অংশটি খুব ভালো করে খেয়াল করুন। অ্যাপ এ প্রবেশ করার পর আপনার ওয়েবসাইটের একই ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে।

মোবাইল অ্যাপের ইন্টারফেসটি অত্যন্ত সহজ ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। যাতে কম শিক্ষিত মানুষ ও এটি সহজে চালাতে পারে। অ্যাপের মাধ্যমে আপনি আপনার ডিজিটাল লাইসেন্স বা ই-লাইসেন্সটি ফোনের স্ক্রিনে প্রদর্শন করতে পারবেন, যারা রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ কে দেখানোর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বৈধ। এটি আপনাকে কাগজের বা প্লাস্টিকের লাইসেন্স সব সময় সাথে নিয়ে ঘোরার ঝামেলা থেকে চিরতরে মুক্তি দেবে। তাই স্মার্টফোনের এই যুগে অ্যাপ এর ব্যবহার জানা আপনার ডিজিটাল প্রোফাইল পরিচালনার কাজকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই আজই অ্যাপটি ডাউনলোড করুন এবং বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড এর নিয়ম অনুযায়ী আপনার হাতের মুঠোয় বিআরটিএ এর সেবা উপভোগ করুন।

অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারন ভুল ও তার সমাধান

বিআরটিএ (BRTA) পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময় অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করে বসেন, যার কারণে তাদের প্রোফাইল লক হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় ভুলটি হয় যখন কেউ নিজের নাম বা জন্ম তারিখ এনআইডি কার্ডের সাথে না মিলিয়ে আন্দাজে টাইপ করেন। ডাটাবেজে তথ্যের অমিল পাওয়া গেলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে বাতিল বা হোল্ড করে দেয়। এ ধরনের টেকনিক্যাল ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে আমাদের BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স অ্যাকাউন্ট খোলার গাইড এর প্রতিটি নিয়ম খুব নিখুঁতভাবে ফলো করা উচিত। ভুল তথ্য দিয়ে সাবমিট করার পর তা সংশোধন করতে বিআরটিএ এর টেকনিক্যাল সাপোর্টে যোগাযোগ করতে হয়। 

আরেকটি সাধারণ ভুল হল ওটিপি কোড টাইপ করার সময় অতিরিক্ত সময় অপচয় করা বা ভুল কোড বারবার ইনপুট দেওয়া। পর পর তিনবার ভুল ওটিপি দিলে আপনার মোবাইল নাম্বারটি ব্লক হয়ে যেতে পারে যা ২৪ ঘন্টার আগে আর আনব্লক হয় না।  এছাড়া অন্য কারো এনআইডি কার্ড দিয়ে নিজের নামে একাউন্ট খোলার চেষ্টা করলে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই সবসময় নিজের বৈধ নথিপত্র ব্যবহার করে একাউন্ট খুলুন এবং যেকোনো জটিলতায় সাইটের হেল্পলাইন নাম্বারে সরাসরি কল করুন। সঠিক গাইডলাইন মেনে চললে কোন ভুল ছাড়াই আপনি প্রথমবারেই একটি সফল বিআরটিএ অনলাইন একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।  

শেষ কথাঃ বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড

বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড এর পরিশেষে বলা যায়, দালালের সাহায্য ছাড়া এবং কোনরকম বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই প্রফেশনাল বা অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম শর্তই হলো একটি সঠিক অনলাইন একাউন্ট। আমরা এই পোস্টে অত্যন্ত সহজ ভাষায় এবং প্রতিটি ধাপ সুনির্দিষ্ট ভাবে আলোচনা করেছি যাতে যে কোন সাধারণ মানুষ এটি বুঝতে পারেন। আশা করি আমাদের বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইডটি আপনার অনলাইন প্রোফাইল তৈরি করার যাত্রা অনেক সহজ ও সফল করে তুলবে। তাই আজই কোন দ্বিধা না করে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে বিআরটিএ এর পোর্টালে গিয়ে আপনার একাউন্টটি তৈরি করে ফেলুন।


ডিজিটাল মাধ্যমে সঠিক ব্যবহার আমাদের জীবনযাত্রাকে যেমন সহজ করে তেমনি সরকারের সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াকেও করে তোলে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত। নিজের একটি ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থাকলে আপনি নিজেই নিজের লাইসেন্সের মালিক হতে পারবেন এবং যেকোনো আপডেট সরাসরি জানতে পারবেন। এই তথ্যবহুল গাইডটি আপনার উপকারে আসলে অবশ্যই এটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন যাতে তারা ঘরে বসে একাউন্ট খুলতে পারে। আপনারা TMPEAK ব্লগের এই বিশেষ নির্দেশিকাটি মেনে নিরাপদ ড্রাইভিং এর দিকে একধাপ এগিয়ে যান এবং দেশের একজন দায়িত্বশীল ও আইনমান্যকারী নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন। লাইসেন্স সংক্রান্ত নতুন কোন আপডেট আসলে তা আমরা আমাদের ব্লগে সবার আগে প্রকাশ করব তাই নিয়মিত আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Monirul Islam
Md. Monirul Islam
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও Tm Peak ব্লগার ওয়েবসাইট এর ওনার। তিনি অনলাইন ইনকাম, লাইফস্টাইল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ।