অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
ঘরে বসে এখন খুব সহজে ট্যাক্স দেওয়া সম্ভব। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে, যার বড় প্রমাণ ই-রিটার্ন। আগে আয় কর অফিসে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে, দালালের হয়রানি সহ্য করে যে কাজ করা হতো, তা এখন নিজের বাড়িতে বসে ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে কয়েক ক্লিকেই করা যায়। কোন বাড়তি ঝামেলা বা আইনি জটিলতা ছাড়াই আপনি নিজের ট্যাক্স নিজে ফাইল করতে পারবেন। আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম নিয়ে ধাপে ধাপে আলোচনা করব, যাতে ট্যাক্স নিয়ে আপনার মনের সব ভয় ও দ্বিধা একদম কেটে যায়।
পেজ সুচিপত্রঃ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
- অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
- ই-রিটার্ন পোর্টাল কি এবং এর প্রয়োজনীয়তা
- অনলাইন ট্যাক্স জানার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
- ই-রিটার্ন পোর্টালে যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন
- করযোগ্য আয় এবং কর রেয়াত হিসাব করার সহজ উপায়
- অনলাইনে রিটার্ন ফরম পূরণের ধাপসমূহ
- অনলাইন ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ট্যাক্স প্রদান
- জিরো রিটার্ন বা শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম
- রিটার্ন সাবমিট করার পরে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ডাউনলোড
-
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ পাঁচটি ভুল ও
প্রতিকার
- শেষ কথা: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম জানা থাকলে আয়কর দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি আপনার কাছে একদম পানির মত সহজ মনে হবে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকারের আয়কর বিভাগ তাদের ই রিটার্ন পোর্টালটিকে অনেক বেশি আধুনিক এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি বা সহজবোধ্য করে তুলেছে। আপনি যদি একজন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী বা সাধারণ করদাতা হন, কবে অনলাইনের নিয়মগলো জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে কোন ধরনের হয়রানি ছাড়াই পর প্রদানের সুযোগ করে দেওয়া।
আরো পড়ুনঃ সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি
ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্যাক্স সাবমিট করার জন্য আপনাকে প্রথমেই সরকারের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে কিছু ধাপ পার করতে হবে এই নিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে সঠিক তথ্য প্রদান আয়ের উৎস ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি আপলোড করা যারা প্রতিবছর ট্যাক্স অফিসে গিয়ে সময় নষ্ট করতে চান না তাদের জন্য এই অনলাইন পোর্টাল একটি চমৎকার ডিজিটাল ট্যাক্স ব্যবস্থার খুঁটিনাটি বিষয় গুলো ধাপে ধাপে অত্যন্ত সহজ ভাষায় জেনে নিই।
ই-রিটার্ন পোর্টাল কি এবং এর প্রয়োজনীয়তা
ই রিটার্ন পোর্টাল হল এনবিআর (NBR) বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি বিশেষ ওয়েবসাইট যার মাধ্যমে করদাতারা ঘরে বসে ট্যাক্স দিতে পারেন। এই পোর্টালটি ব্যবহার করার প্রধান সুবিধা হল, এখানে অনলাইন আইকন রিটার্ন জমা দেয়ার সকল নিয়ম খুব সুন্দর ভাবে সাজানো রয়েছে । এটি ব্যবহার করলে আপনাকে কোন ফিজিক্যাল ফর্মে হাতে লিখে হিসাব-নিকাশ করতে হবে না , সিস্টেম নিজেই অনেক কিছু হিসাব করে দেয়। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায় এবং আপনার মূল্যবান সময় বেঁচে যায়।
বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রত্যেকেরই এই অনলাইন পোর্টাল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। আপনি যদি সঠিক সময়ে ট্যাক্স ফাইল না করেন, তবে আপনাকে জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে হতে পারে, যা অনলাইনের মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব। এই পোর্টালে আপনার আগের বছরের ট্যাক্স এর রেকর্ডও খুব সুন্দর ভাবে সংরক্ষিত থাকে, যা ভবিষ্যতে কোন প্রয়োজনে দেখতে পারেন। তাই ঝামেলা মুক্ত নাগরিক জীবন উপভোগ করতে এবং সরকারি নিয়ম মেনে চলতে এই পোর্টালের ব্যবহার জানা সবার জন্য অত্যন্ত আবশ্যক।
অনলাইন ট্যাক্স জানার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
ই-রিটার্ন পোর্টালে যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন
- প্রথমে ইন্টারনেটে গুগলে গিয়ে এনবিআর এর অফিসিয়াল ই-রিটার্ন (E-Return NBR) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- হোমপেজে থাকা রেজিস্ট্রেশন 'Registration' বা সাইন আপ 'Sign Up' বাটনে ক্লিক করুন।
- নির্দিষ্ট বক্সে আপনার 12 ডিজিটের টিআইএন (TIN) নাম্বারটি নির্ভুলভাবে লিখুন।
- এরপর আপনার নিজের নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বরটি দিন এবং ভেরিফাই 'VERIFY' বাটনে ক্লিক করুন।
- আপনার মোবাইলে একটি OTP কোড আসবে সেটা নির্দিষ্ট বক্সে ভেরিফাই করুন।
- ওটিপি ভেরিফিকেশন সফল হলে আপনাকে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড (STRONG PASSWORD) সেট করতে হবে।
করযোগ্য আয় এবং কর রেয়াত হিসাব করার সহজ উপায়
আপনার মোট আয় এর উপর কত টাকা ট্যাক্স আসবে বা আদৌ কোন ট্যাক্স আসবে কিনা তা হিসাব করা অনলাইন ফর্মের অন্যতম প্রধান অংশ। তবে চিন্তার কিছু নেই, কারণ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম অনুসরণ করলে পোর্টালটি নিজেই আপনার কর যজ্ঞ আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে নেয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সীমার ওপর আয় থাকলে তবেই আপনাকে ট্যাক্স দিতে হয়, অন্যথায় আপনাকে শূন্য বা জিরো রিটার্ন জমা দিতে হবে।
পাশাপাশি, আপনি যদি নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে সরকার আপনাকে ট্যাক্স বা করের উপর বিশেষ ছাড় বা রেয়াত দিয়ে থাকে। যেমন- জীবন বীমার প্রিমিয়াম, ডিপিএস, সরকারি সঞ্চয়পত্র বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করলে আপনি ট্যাক্স রেয়াত বা রিবেট পাওয়ার যোগ্য হবেন। ই-রিটার্ন ফর্মে এই বিনিয়োগের তথ্যগুলো সঠিকভাবে ইনপুট দিলে সিস্টেম নিজে থেকেই আপনার করের পরিমাণ কমিয়ে দেবে। এই সহজ হিসাব ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ এখন নিজের ট্যাক্স নিজেই হিসাব করতে পারছেন খুব সহজেই।
অনলাইনে রিটার্ন ফরম পূরণের ধাপসমূহ
অনলাইন ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ট্যাক্স প্রদান
আপনার আয়ের উপর যদি কোন কর বা ট্যাক্স ধার্য হয়, তবে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। কারণ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম অনুযায়ী আপনি পোর্টাল থেকেই সরাসরি ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে করের টাকা শোধ করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে আর সোনালী ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে চালান ফরম পূরণ করার কষ্ট করতে হবে না। আপনি আপনার ঘরে বসে যে কোন সময় এই পেমেন্ট করতে পারবেন।
অনলাইন পেমেন্ট সেকশনে গেলে আপনি বিকাশ, রকেট, নগদের মতো জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং বা যে কোন ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অপশন পাবেন। আপনার সুবিধাজা জনক মাধ্যমটি বেছে নিয়ে করের টাকা পরিশোধ করার সাথে সাথেই সিস্টেম থেকে একটি ই-চালান তৈরি হবে। এই ই-চালান টি আপনার ট্যাক্স পরিশোধের আসল প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এবং এটি পোর্টালের স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যাবে। এই চমৎকার ও নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থার কারণে ট্যাক্স দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনেক বেশি স্বচ্ছ হয়েছে।
জিরো রিটার্ন বা শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম
যাদের টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট আছে কিন্তু বার্ষিক আয়কর দেওয়ার সীমার নিচে, তাদের জন্য জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনি যদি এই ক্যাটাগরিতে পড়েন, তবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম মেনে খুব সহজে কোন টাকা না দিয়েই রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন। অনেকে মনে করেন আয় না থাকলে রিটার্ন দিতে হয় না, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। টিআইএন (TIN) থাকলে আপনাকে অবশ্যই রিটার্ন দেখাতে হবে। অনলাইনে জরিমানার ভয় ছাড়া এই জিরো রিটার্ন সাবমিট করা মাত্র পাঁচ মিনিটের কাজ।
শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য ফর্মে আপনার আয়ের ঘরে বর্তমান করসীমার নিচের যে কোন অংক বা আপনার প্রকৃত আই উল্লেখ করতে হবে। এরপর ট্যাক্স কমপিউটেশন বা হিসাবের পাতায় গেলে দেখবেন আপনার প্রদেয় করের পরিমাণ '0' শূন্য দেখাচ্ছে। যেহেতু কোন ট্যাক্স দিতে হচ্ছে না, তাই সরাসরি নেক্সট বাটনে গিয়ে আপনি ফর্মটি সাবমিট করে দিতে পারেন। এই সহজ নিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বসেই কোন বাড়তি খরচ ছাড়াই তাদের আইনি দায়িত্ব পালন করতে পারছেন।
রিটার্ন সাবমিট করার পরে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ডাউনলোড
অনলাইনে আপনার ট্যাক্স ফর্মটি চূড়ান্তভাবে সাবমিট বা জমা দেওয়ার পর আপনার কাজ কিন্তু শেষ হয়ে যায় না, একটি শেষ জরুরী কাজ বাকি থাকে। সেটি হলো অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম অনুযায়ী আপনার জমার প্রমাণপত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপটি পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করে নেওয়া। এই স্লিপটি প্রমাণ করে যে আপনি নির্দিষ্ট সময়ে এবং সঠিক নিয়মে আপনার বার্ষিক ট্যাক্স রিটার্ন সরকারের কাছে সফলভাবে জমা দিয়েছেন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে এই স্লিপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ফর্ম সাবমিট করার সাথে সাথেই স্ক্রিনে একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে এবং সেখানে ডাউনলোড অপশনটি দেখতে পাবেন। আপনি চাইলে সাথে সাথেই একনলেজমেন্ট স্লিপ এবং আপনার মন ট্যাক্স সার্টিফিকেটটি পিডিএফ (PDF) ফরমেটে কম্পিউটারে বা মোবাইলে সেভ করে রাখতে পারেন। এই স্লিপটিতে একটি নির্দিষ্ট বারকোড এবং ট্র্যাকিং নাম্বার থাকে যা দিয়ে যেকোনো সময় আপনার রিটার্নের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। তাই ভবিষ্যতে ব্যাংক লোন, ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কাজের সুবিধার্থে এই কপিটি সব সময় সুরক্ষিত স্থানে প্রিন্ট করে রেখে দিবেন।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ পাঁচটি ভুল ও প্রতিকার
শেষ কথা: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম জানা থাকলে এবং তা সঠিকভাবে অনুসরণ করলে ট্যাক্স দেওয়া নিয়ে কোন ভীতি বা দ্বিধা মনের মধ্যে থাকে না। ডিজিটাল এই যুগে এসে সনাতন পদ্ধতির ঝামেলা এড়িয়ে অনলাইনে কর প্রদান করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে যেমন আপনার মূল্যবান সময় বাঁচে, এমনি যেকোনো ধরনের ভুল বা অহেতুক দালালের খরচ থেকেও নিজেকে মুক্ত রাখা যায়। একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে আয়কর দেওয়া আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
আরো পড়ুনঃ BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স আকাউন্ট খোলার গাইড
আজকের এই বিস্তারিত পোস্টে আমরা চেষ্টা করেছি ই রিটার্ন জমার প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় আপনাদের সামনে তুলে ধরতে। আশা করি এই নিয়মগুলো জানার পর আপনার নিজের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দিতে আর কোন সমস্যা বা ভয় থাকবে না। যদি কোন ধাপে বুঝতে সমস্যা হয়, তবে পোর্টালের হেল্পলাইন বা নির্দেশিকা বুকটি দেখে নিতে পারেন। তাই আর দেরি না করে, আজই আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলোর সাথে নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আপনার ট্যাক্স রিটার্ন সফলভাবে জমা দিন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url