শিলাজিৎ প্রকৃতির এক অনন্য উপহার! চলুন জেনে নেই শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা গুলো

 

শিলাজিৎ কোন সাধারণ লতা পাতা বা ফল নয়। এটি একটি ক্ষনিজ সম্পদ যা হিমালয় ও তিব্বতের উঁচু পাহাড়ে পাওয়া যায় কয়েক শতাব্দী ধরে পাথরের বিভিন্ন স্তরে আটকে পড়ে থাকা গাছপালা গুলো পচনের ফলে এক ধরনের আঠালো পদার্থের সৃষ্টি করে, এটিই মূলত শিলাজিৎ।


আয়ুর্বেদে একে "অমৃত" বলা হয়েছে, কারণ এটি শরীরকে ভেতর থেকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা রাখে। আজকের বিস্তারিত ব্লগে আমরা জানবো কেন এটি বর্তমান আধুনিক জীবনে এত প্রয়োজনীয়। এবং শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা গুলো।

এক নজরে আজকের আলোচনাঃ

শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতাঃ 

ক. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দূর করতেঃ

অনেকে পর্যাপ্ত সময় বা নিয়ম মেনে ঘুমানোর পরেও সারাদিন শরীরে প্রচন্ড অলসতা ও ক্লান্তি অনুভব করেন। এ ধরনের সমস্যা কে আমরা অনেক সময় (Chronic Fatigue Syndrome) "ক্রনিক ফেটিক সিনড্রোম" বলে থাকি। শরীরকে সতেজ রাখতে প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর ভুমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে আপনি এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি থেকে খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারেন।


শিলাজিৎ সরাসরি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকা (Mitochondria) মাইটোকনড্রিয়া বা কোষের শক্তিঘর কে সক্রিয় ও উদ্দীপিত করে। এর ফলে শরীরের কোষে (ATP) "এডিনোসিন ট্রাই ফসফেট" উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পায়. এই (ATP) হল আমাদের শরীরের জীবন শক্তির মূল উৎস যখন শরীরে এটিপি এর পরিমাণ বাড়ে তখন স্বাভাবিকভাবেই এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি পায় এবং সারা দিনের কাজের পরেও শরীর ক্লান্তি আসে না। 


খ. বার্ধক্য প্রতিরোধ ও ত্বকের যত্ন

সময়ের সাথে সাথে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়া একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। কিন্তু অকাল বার্ধক্য রোধে শিলাজিৎএক বিস্ময়কর উপাদান। প্রাকৃতিকভাবে তারুণ্য ধরে রাখতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী। এটি মূলত ভেতর থেকে আপনার ত্বককে পুনরুজ্জীবিত  করতে সাহায্য করে


শিলাজিৎ এ প্রচুর পরিমাণে ফুলভিক অ্যাসিড থাকে যা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিক ইনফ্লেমিতরি উপাদান হিসেবে স্বীকৃত এটি শরীরের ভেতরে থাকা ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিকেলস বা নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষগুলোকে ধ্বংস করে।  ফ্রি রেডিক্যালস মূলত আমাদের ত্বকের কোষের ক্ষতি করে। আর শিলাজিৎ এই প্রক্রিয়াকে বাধা দিয়ে ত্বককে সজিব রাখে।


নিয়মিত শিলাজিত সেবনে ত্বকের ভেতর থেকে কোলাজেন উপাদান বৃদ্ধি পায়জাতকের ঝুলে পড়া রোধ করে এবং ত্বককে টানটান রাখে এর ফলে মুখের রেখা ও বলি রাখে কমতে শুরু করে। আপনি যদি ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী উজ্জ্বলতা এবং চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে চান তবে সঠিক উপায়ে  শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা অনুসরণ করা আপনার ডেইলি রুটিন এর অংশ হতে পারে।


গ. স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি;

মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতা এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে শিলাজিৎ প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদের ব্যবহৃত হয়ে আসছে বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে পড়াশোনা বা কাজের চাপে যারা মনোযোগ হারিয়ে ফেলছেন তাদের জন্য শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা জানা থাকা খুবই প্রয়োজন এটি কেবল সাধারন শক্তি যোগায় না বরং মস্তিষ্কের জটিল রোগ প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে

আলঝেইমার প্রতিরোধে ভুমিকাঃ

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে শিলাজিৎ মস্তিষ্কে টাও (TAU) নামক এক ধরনের প্রোটিন জমা হতে বাধা দেয়। এই (TAU) টাও প্রোটিন যখন মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকভাবে জমা হয়, তখন  তা আলঝেইমার বা স্রিতিভ্রংস রোগের মুল কারন হয়ে দাঁড়ায়। শিলাজিৎ নিয়মিত সেবনের ফলে এই প্রোটিন জমার হার কমে যায়, যা আপনার দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিশক্তিকে সুরক্ষিত রাখে।

মনোযোগ ও মানসিক সুস্থতাঃ

স্মৃতিশক্তি রক্ষার পাশাপাশি এটি ব্রেইন ফাংশন কে উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা খনিজ উপাদানগুলো নিউরনের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে, যার ফলে কাজে গভীর মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে। যারা মানসিক অবসাদ বা ফোকাসের সমস্যায় ভুগছেন তারা যদি সঠিক নিয়মে শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা অনুসরণ করেন, তবে খুব দ্রুত মানসিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতেজ অসুস্থ বোধ করবেন এটি মূলত স্ট্রেস কমিয়ে মস্তিষ্ককে শান্ত ও কার্যকরী রাখতে সাহায্য করে।


ঘ. উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো

হৃদপিণ্ড আমাদের শরীরের ইঞ্জিন, আর এর সুস্থতার ওপরে নির্ভর করে আমাদের সামগ্রিক দীর্ঘায়ু। শিলাজিৎ প্রাকৃতিকভাবে হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর, তবে কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরী। যাতে আপনি এর সর্বোচ্চ সুফল পেতে পারেন।

রক্ত সঞ্চালন ও হার্টের সুরক্ষা

শিলাজিৎ শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে ( Blood Circulation ) স্বাভাবিক ও উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা আইরন এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়, যা হৃদপিণ্ডের উপর চাপ কমায়। এটি হার্টের পেশি গুলোকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে এবং রক্তনালীর নমনীয়তা বজায় রাখে নিয়মিত সেবনে এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, যা পরোক্ষভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক অংশে কমিয়ে দেয়।

সতর্কতা ও ডাক্তারের পরামর্শ 

হৃদরোগের ক্ষেত্রে শিলাজিৎ যেমন উপকারী তেমনি এর ব্যবহারে সচেতনতাও প্রয়োজন, যেহেতু এটি রক্তচাপ এবং হার্ট রেটের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই আপনার যদি আগে থেকেই হার্টের কোন গুরুতর সমস্যা পেসমেকার লাগানো থাকে, বা উক্ত রক্তচাপের জন্য নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন তবে এটি শুরু করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। আপনার শরীরের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা মেনে চললে আপনি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্তভাবে একটি সুস্থ হৃদপিণ্ড বজায় রাখতে পারবেন।

ঙ. টেস্টোস্টেরন হরমোন ও শারীরিক শক্তি

পুরুষদের শারীরিক সক্ষমতা এবং জীবনের শক্তি বজায় রাখতে শিলাজিত একটি প্রাচীন এবং শক্তিশালী প্রাকৃতিক সমাধান। বিশেষ করে যারা প্রাকৃতিকভাবে হরমোনের ভারসাম্য রক্ত রক্ষা করতে চান, তাদের জন্য শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা জানা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একে পুরুষদের স্বাস্থ্যের জন্য একটি প্রাকৃতিক "সুপারফুড" হিসেবে গণ্য করা হয়।

টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি ঃ

পুরুষদের শরীরে প্রধান সেক্স হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে কমতে শুরু করে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত শিলাজিৎ সেবনে শরীরের প্রাকৃতিকভাবে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্র উল্লেখযোগ্য হলে বৃদ্ধি পায় না কার্যকর যারা সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য সঠিক উপায়ে শিলাজিৎ খাওয়ার  নিয়ম ও উপকারিতা মেনে চলা অত্যন্ত ফল-প্রসু হতে পারে।

পেশি গঠন ও অ্যাথলেটিক পারফরমেন্সঃ

শারীরিক সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি শিলাজিৎ বেশি গঠনে সরাসরি সহায়তা করে এটি ব্যায়ামের সময় পেশির ক্লান্তি দূর করে এবং শরীরকে দ্রুত রিকভার হতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত জিমে যান বা বডি বিল্ডিং করছেন তারা প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে শিলাজিৎ  বেছে নিতে পার... এটি আপনার হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে এবং শরীরের চর্বি কমিয়ে পেশিগুলোকে আরও সুগঠিত ও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।


শিলাজিৎ এর ইতিহাসঃ

শিলাজিৎ ব্যবহার কোন আধুনিক আবিষ্কার নয়; বরং এটি হাজার হাজার বছর ধরে হিমালয়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের গোপন শক্তি হিসেবে পরিচিত। প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের মহাকাব্য 'চরক সংহিতা'- তে শিলাজিতের গুণগান করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে যে, পৃথিবীতে এমন কোন রোগ নেই যা সঠিক উপায়ে শিলাজিত সেবনের মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব নয়। প্রাচীন  মুনি-ঋষিরা একে 'ধাতু পুষ্টি' এবং দীর্ঘায়ু লাভের প্রধান উপাদান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আপনি যদি সুস্বাস্থ্য ফিরে পেতে চান, তবে এই প্রাচীন শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা মেনে চলা আপনার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত হতে পারে।


খনিজ উপাদানঃ শিলাজিৎ এ থাকা পুষ্টিগুণ


শিলাজিৎ কেন এত শক্তিশালী? কারণ এতে প্রায় 84 টিরও বেশি খনিজ উপাদান আয়নিত অবস্থায় থাকে। যা আমাদের শরীর খুব দ্রুত শোষণ করতে পারে এর প্রধান কয়েকটি উপাদান হলোঃ


ফুলভিক এসিডঃ এটি প্রধান এন্টিঅক্সিডেন্ট যা পুষ্টি উপাদানকে কোষের ভেতর পৌঁছিয়ে দেয়।

ম্যাগনেসিয়ামঃ পেশির খিচুনি দূর করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে।

পটাশিয়ামঃ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদপিন্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে।

আইরনঃ রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করে শরীরের হিমোগ্লোবিন বাড়ায়।

জিংকঃ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে

এই খনিজ গুলোর সঠিক সমন্বয় পাওয়ার জন্য বিশুদ্ধ শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অবশ্যক।


শিলাজিৎ খাওয়ার সঠিক নিয়ম 

শিলাজিৎ এর পূর্ণ উপকারিতা পেতে হলে এটি সঠিক উপায়ে এবং সঠিক পরিমাণে সেবন করা জরুরি। বাজারে শিলাজিৎ বিভিন্ন ফর্মে পাওয়া যায়, তবে এর ধরন ভেদে ব্যবহারের নিয়মে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:বিভিন্ন ফর্মে পাওয়া যায় তবে এর ধরন ভেদে ব্যবহারের নিয়মে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


১. শিলাজিৎ রেজিনঃ


এটি শিলাদিতের সবচেয়ে বিশুদ্ধ এবং প্রাকৃতিক রূপ। রেজিন সাধারণত আঠালো বা আলকাতরার মত ঘন হয়ে থাকে। 


একটি মটর দানা বা ছোট চিমটি পরিমাণ প্রায় ১০০-২০০ মিলিগ্রাম রেজিন নিন। এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ অথবা হালকা গরম পানির সাথে এটি মিশিয়ে নিন। এটি পুরোপুরি মিশে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং তারপর পান করুন দুধের সাথে খেলে এর পুষ্টিগুণ আরো বৃদ্ধি পায়।


২. শিলাজিৎ পাউডারঃ


যারা সরাসরি রেজিন খেতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না তারা পাউডার বেছে নিতে পারেন।


প্রতিদিন ৩০০-৫০০ মিলিগ্রাম পাউডার সেবন করা নিরাপদ কুসুম গরম দুধ বা ফলের রসের সাথে মিশিয়ে এটি খাওয়া যায়। তবে ভালো ফলাফলের জন্য প্রাকৃতিক মধুর সাথে মিশিয়েও এটি খেতে পারেন।


৩. শিলাজিৎ ক্যাপসুলঃ


আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা এতই বেশি যে আমরা নিজেদের জন্যই কোন সময় বের করতে পারি না। ভ্রমণে বা ব্যস্ত সময় ব্যবহারের জন্য এটি সবচেয়ে সুবিধাজনক। 


সাধারণত একটি ক্যাপসুলে নির্দিষ্ট পরিমাণ পাউডার দেওয়া থাকে তাই পরিমাপ নিয়ে চিন্তা করতে হয় না দৈনিক একটি বা দুইটি ক্যাপসুল ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পানির সাথে সেবন করা যায়।


 শিলাজিৎ খাওয়ার সঠিক সময়

শিলাজিৎ শরীরের মেটাবলিজম ও এনার্জি লেভেল বাড়ায় তাই এটি খাওয়ার সময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


সকালে খালি পেটেঃখাওয়ার সবচেয়ে আদর্শ বা সেরা সময় হলো সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে খাওয়া খালি পেটে খেলে এর শক্তিশালী খনিজ এবং ফুলবিক এসিড সরাসরি রক্তে মিশে যেতে পারে এবং দ্রুত কাজ শুরু করে এটি আপনাকে সারাদিন কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত রাখবে।

রাতে ঘুমানোর আগেঃ আপনি যদি শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে চান তবে রাতে ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে কুসুম গরম দুধের সাথে এটা খেতে পারেন এটি শরীরের কোষ মেরামতের সাহায্য করে।

ব্যায়ামের আগেঃ যারা পেশি গঠন বা বডি বিল্ডিং করছেন তারা ৩০-৪৫ মিনিট আগে এটি খেতে পারেন যা স্ট্যামিনা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

বিশেষ পরামর্শঃ শিলাজিৎ শরীরের ভেতর তাপ উৎপন্ন করতে পারে। তাই এটি সেবন করার সময় সারা দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত। যে কোন নতুন সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তাই অবশ্যই শিলাজিৎ সেবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সার্টিফাইড কোন ডক্টরের কাছে আপনার শারীরিক সকল অবস্থার বিষয় গুলো পরামর্শ করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করবেন।


শিলাজিৎ কেনার সময় যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা উচিতঃ

অনলাইনে বা বাজারে বর্তমানে অনেক নকল শিলাজিৎ পাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি করতে পারে।। তাই একটি সঠিক এবং নিরাপদ পণ্য বেছে নিতে শিলাদিত খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা জানার পাশাপাশি এর বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের উপায় গুলো জানাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।  নিচে কেনার সময় লক্ষণীয় প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।। 


১. বিশুদ্ধতা পরীক্ষাঃ

খাঁটি শিলাজিৎ চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হল এর দ্রবণীয়তা। আসল এবং উচ্চমানের শিলাজিৎ কুসুম গরম পানি বা দুধের সংস্পর্শে এলে খুব দ্রুত এবং পুরোপুরি মিশে যায় গ্লাসের নিচে পড়ে থাকবে না। যদি দেখেন গ্লাসের তলায় কোন কিছু জমে আছে তবে বুঝবেন তাতে ভেজাল মেশানো হয়েছে সঠিক শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা পেতে হলে এই পরীক্ষাটি করে নেওয়া জরুরি।


২. থার্ড পার্টি ল্যাব রিপোর্ট ও হেভি মেটাল টেস্টঃ

যেহেতু শিলাজিৎ পাহাড়ের খাঁদ থেকে গ্রহ সংগ্রহ করা হয়, তাই এতে প্রাকৃতিকভাবে সিসা (Lead), পারদ (Mercury) , বা আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতু (Heavy Metals) থাকতে পারে। ভালো ব্র্যান্ডগুলো সব সময় তাদের পণ্যের থার্ড পার্টি ল্যাব টেস্ট করিয়ে থাকে। কেনার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে পণ্যটি হেভি মেটাল মুক্ত এবং ল্যাব সার্টিফাইড কিনা। অনিরাপদ পণ্য সেবন করলে শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা পাওয়ার বদলে লিভার বা কিডনির ক্ষতি হতে পারে।


৩. প্রাকৃতিক গন্ধ ও স্বাদ চেনার উপায়ঃ

. আসল শিলাজিৎ এর একটি স্বতন্ত্র এবং তীব্র গন্ধ আছে। এটি কিছুটা পোড়ার রাবার, ধোঁয়া বা ভেষজ মাটির মতো গন্ধযুক্ত হয়। এর স্বাদ বেশ তেতো এবং কষটানি যুক্ত হয়। যদি শিলাজিত খুব মিষ্টি বা সুগন্ধযুক্ত হয় তবে বুঝবেন এতে চিনি বা কৃত্রিম ফ্লেভার মেশানো হয়েছে।


৪. সঠিক ফর্ম বেছে নেওয়াঃ

পাউডার বা ক্যাপসুল এর চেয়ে রেজিন (Resin) ফর্ম কে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ধরা হয়। পাউডার ফর্মে অনেক সময় ফিল্টার বা ফিলার মেশানো থাকে। তাই সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পেতে রেজিন (Resin)  ফর্ম কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন সঠিক উৎস থেকে আসল পণ্য সংগ্রহ করলেই কেবল আপনি শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা শতভাগ ভোগ করতে পারবেন।


খুব সস্তায় পাওয়া শিলাজিৎ সাধারণত নকল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই ব্রান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা অপরিহার্য।


সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

যে কোন ভেষজ বা প্রাকৃতিক সাপ্লিমেন্ট এর মত শিলাজিতের ক্ষেত্রেও পরিমিতি ভাববোধ থাকা জরুরি। আপনি যদি সঠিক খাওয়ার নিয়ম উপকারিতা না মেনে অতিরিক্ত মাত্রায় এটি সেবন করেন তবে কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে নিরাপদ ব্যবহারের জন্য নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখুনঃ


১. অপরিশোধিত বা কাঁচা শিলাজিতের ঝুঁকিঃ

অনেকে মনে করেন পাহাড় থেকে সরাসরি সংগৃহীত বেশি কার্যকরী যা একটি ভুল ধারণা পাহাড়ের খাঁজে থাকা অপরিচিত বিভিন্ন ক্ষতিকারক পাঙ্গাস ব্যাকটেরিয়া এবং মিশে থাকতে পারে তাই সব সময় ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। যাতে শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা নিরাপদে পাওয়া যায়।


২. রক্তচাপের ওপর প্রভাবঃ

শিলাজিৎ প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন তাদের ক্ষেত্রে শিলাজিত সেবনের ফলে রক্তচাপ হঠাৎ করে অনেকটা কমে যেতে পারে। এতে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব হতে পারে। তাই এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিলাজিৎ গ্রহণ করা উচিত নয়।


৩. ইউরিক অ্যাসিড ও থ্যালাসেমিয়াঃ

যাদের রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা অনেক বেশি বা যারা 'গাউট' (Gout) সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য শিলাজিৎ সেবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়াও শিলাজিৎ এ প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। তাই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এটি শরীরের আয়রনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এ ধরনের বিশেষ শারীরিক অবস্থায় শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা আপনার জন্য প্রযোজ্য কিনা তা বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি


৪. এলার্জি ও সাময়িক অস্বস্তিঃ

কারো কারো ক্ষেত্রে শিলাজিৎ  সেবনের পর তাকে চুলকানি রেশ মাথা ঘোরা বা হার্ট রেট বেড়ে যাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে এটি সাধারণত ব্র্যান্ড পরিবর্তন বা ভুল মাত্রায় সেবনের কারণে হয়ে থাকে যদি এমন কোন লক্ষণ দেখা দেয় তবে তাৎক্ষণাৎ এটি খাওয়া বন্ধ করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।


পরিশেষে বলা যায়, বর্তমানের এই ব্যস্ত এবং প্রতিযোগিতামূলক সময়ে শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াটা বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। যারা নিজেদের ফিটনেস নিয়ে সিরিয়াস এবং প্রাকৃতিক উপায়ে স্ট্যামিনা বাড়াতে চান, তাদের জন্য শিলাজিৎ হতে পারে একটি গেম-চেঞ্জার সমাধান। এটি শুধু আপনার শারীরিক শক্তিই বাড়াবে না, বরং প্রতিদিনের কাজের চাপ সামলে আপনাকে মানসিকভাবে প্রানবন্ত রাখতেও সাহায্য করবে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url